নীলফামারীর ডিমলায় ভুট্টার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

নীলফামারীর ডিমলায় ভুট্টার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলনে কৃষকের ঘরে ফিরেছে স্বস্তি ও আশার আলো। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সোনালি ভুট্টার সমারোহ এখন যেন এক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।

রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টার আবাদ এবং আশানুরূপ ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি। মাঠে-মাঠে এখন চলছে ভুট্টা সংগ্রহ, শুকানো ও বাজারজাতকরণের ব্যস্ততা। কৃষকদের ভাষায়, এ যেন সোনালি সময়।

ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবার-পরিজন নিয়ে মাঠে কাজ করলেও ক্লান্তি নেই তাদের চোখে মুখে। বরং ভালো ফলনের আনন্দ আর লাভের প্রত্যাশাই তাদের প্রাণবন্ত করে তুলেছে। কেউ ভুট্টা কাটছেন, কেউ রোদে শুকাচ্ছেন, আবার কেউ বাজারে বিক্রির জন্য বাজার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ডিমলা উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড়ে ১০ থেকে ১১ মেট্রিক টন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অধিকাংশ জমিতেই হয়েছে কাঙ্খিত ফলন। যদিও কয়েকটি এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে আংশিক ক্ষতি হয়েছে, তারপরও সার্বিক উৎপাদন নিয়ে আশাবাদী কৃষি বিভাগ ও কৃষকেরা।

বর্তমানে প্রতি মণ ভুট্টা ১ হাজার ১শ’ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকেরা আরও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারিভাবে সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা গেলে কৃষকেরা আরও বেশি লাভবান হবেন।

কৃষকদের দাবি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নতজাতের বীজ, সময়মতো সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং কৃষি বিভাগের নিবিড় তদারকির কারণেই এবার রেকর্ড ফলন সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্নার মাঠভিত্তিক পরামর্শ ও সার্বক্ষণিক সহযোগিতা কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না বলেন, ভুট্টা এখন ডিমলার কৃষি অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও সময়োপযোগী পরামর্শ দেওয়ার ফলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এজন্য কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পেলে ভুট্টা চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/168149