বগুড়ার সোনাতলায় ধান শুকানোয় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষানীরা
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : চলতি বছর ইরি-বোরোর এই ভরা মৌসুমে সোনাতলার প্রতিটি ঘর এখন যেন একেক টি ক্ষুদ্র চাতাল। চৈত্রের তপ্ত রোদ আর বৈশাখের উদয়-অস্ত খাটুনি সব মিলিয়ে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন দম ফেলার ফুসরত নেই মানুষের। মাঠের সোনালী ধান ঘরে তোলার পর এখন চলছে সেই ধান প্রক্রিয়াজাত করার চূড়ান্ত ধাপ।
উপজেলার তেকানি চুকাইনগর, মধুপুর ও জোড়গাছা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ইরি-বোরো মৌসুমের ধান সিদ্ধ ও শুকানোর কাজে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন গৃহিনীরা। চলতি বছর ইরি-বোরোর এই ভরা মৌসুমে সোনাতলার প্রতিটি ঘর এখন যেন একেক টি ক্ষুদ্র চাতাল। যেখানে যন্ত্রের চেয়েও বেশি সচল কৃষাণীদের হাতের মমতা আর নিরলস পরিশ্রম।
সোনাতলার গ্রামগুলোতে পা রাখলেই এখন নাকে লাগে নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধ। কাক ডাকা ভোরে যখন পুরুষেরা মাঠ থেকে ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে আসছেন, তখন থেকেই শুরু হচ্ছে নারীদের কর্মযজ্ঞ। বাড়ির আঙিনা, খোলা মাঠ কিংবা পাকা রাস্তার ধারে সারি সারি চুলায় বসানো হয়েছে বড় বড় ‘ডোল’ বা ড্রাম। টগবগ করে ফুটছে জল, আর তাতেই চলছে ধান সিদ্ধ করার কাজ।
ধান সিদ্ধ করার পর তা রোদে শুকানোই হলো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উপজেলার ঠাকুরপাড়া গ্রামের গৃহিনী শামীমা আক্তার রত্না জানান, "ধান কাটা শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদের ঘুম হারাম। ভোরে উঠে চুলা ধরাই, ধান সিদ্ধ করি। তারপর রোদে দিয়ে সারাদিন পাহারা দিতে হয়। একটু মেঘ দেখলেই বুক কাঁপে, এই বুঝি সব ভিজে যায় ।" মাড়াই করা ধান থেকে চিটা ও ময়লা পরিষ্কার করা। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বড় পাত্রে ধান ভাপে সিদ্ধ করা। রোদে সমানভাবে বিছিয়ে দিয়ে বার বার পা দিয়ে নাড়া। পুরোপুরি শুকানোর পর তা ঝেড়ে গোলায় বা বস্তায় ভরা।
তপ্ত রোদে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা কষ্টের হলেও কৃষাণীদের মুখে ক্লান্তির চেয়ে হাসির ঝিলিকই বেশি। কারণ, এবার ফলন ভালো হয়েছে। বাড়ির উঠোনে রোদে বিছিয়ে রাখা সোনালী ধানের ওপর দিয়ে যখন নারীরা পা দিয়ে ধান নাড়েন, তখন মনে হয় যেন এক জীবন্ত উৎসব চলছে।
উপজেলার তেকানীচুকাইনগর, হরিখালী, মধুপুর, উত্তর করমজা, পাকুল্যা, মহিচরণ, কর্পূর, ধর্মকুল, পাতিলাকুড়া, বালুয়াহাট এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সনাতন পদ্ধতিতেই ধান শুকাচ্ছেন তারা, পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবহার দেখা যায়। ঘরের কাজের পাশাপাশি ধান শুকানোর এই বাড়তি দায়িত্ব গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের অবদানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সোনাতলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের মান বেশ ভালো। কৃষাণীরা যেভাবে যত্ন সহকারে ধান শুকাচ্ছেন, তাতে ধানের আর্দ্রতা সঠিক থাকবে এবং চালের মান বজায় থাকবে। বাজার দর ভালো থাকলে এই কষ্ট সার্থক হবে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/168133