বগুড়ায় এবার সাড়ে ৪শ’ কোটি  টাকার শুকনা মরিচ উৎপাদন

বগুড়ায় এবার সাড়ে ৪শ’ কোটি  টাকার শুকনা মরিচ উৎপাদন

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় চলতি মৌসুমে প্রায় সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকার শুকনা মরিচ উৎপাদন হয়েছে। এসব মরিচের বেশিরভাগই উৎপাদন হয়েছে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটের চরাঞ্চলে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার তথ্য বলছে, এ মৌসুমে বগুড়ায় ৫ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়। এরমধ্যে হইব্রিড জাতের মরিচ চাষ হয় ৩ হাজার ৮২০ হেক্টর এবং উফশী ১ হাজার ৭২০ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে ১৫ দশমিক ৬ মেট্রিকটন মরিচের উৎপাদন ধরে উৎপাদিত মরিচের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৩ হাজার ৪৮০ মেট্রিকটন। এরমধ্যে শুকনা মরিচরে পরিমাণ ২০ হাজার ৮৭০ মেট্রিকটন। প্রতি মণ মরিচের দাম সর্বনিম্ন ৯ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১১ হাজার টাকা ধরলে উৎপাদিত শুকনা মরিচের মূল্য দাঁড়ায় ৪৩০ কোটি টাকা। লাল মরিচের ৮৩ শতাংশ চাষ হয় সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটের চরাঞ্চলে। বগুড়ার লাল মরিচের আকর্ষণীয় রং, গুণগত মান ও ঝালের কারণে এর চাহিদা রয়েছে দেশ-বিদেশজুড়ে।  

মরিচ চাষিরা জানান, প্রতি বিঘায় মরিচ চাষে তাদের খরচ হয় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে কাঁচামরিচ ৭৫ থেকে ৮০ এবং শুকনো ৮ থেকে ৯ মণ উৎপাদন হয়। স্থানীয় হাট-বাজারগুলো প্রতি মণ শুকনা মরিচ মানভেদে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এতে খরচ বাদ দিয়ে তারা ভালোই লাভবান হন। চাষিরা আরও জানান, বগুড়ার উৎপাদিত মরিচের মান উন্নত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানি প্রতিযোগিতা করে ভালো দামে তা কিনে থাকে। এতে লাল মরিচের চাহিদা বাড়ায় এ কাজে বাড়ির নারীরাও সমানভাবে শ্রম দিয়ে থাকেন। মরিচের বীজ বপণ থেকে শুরু করে, উঠানো, শুকানো, বাছাই ও বস্তায় ভরা পর্যন্ত লাল মরিচের উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে সহযোগিতা করেন তারা। এতে তাদের লাল মরিচ উৎপাদন যেমন সহজ হয় তেমনি বাড়তি আয় হয় নারীদের। 
তবে অভিযোগও রয়েছে প্রান্তিক কৃষকের। মাঠে ভালো ফলন ভালো হলেও আড়তে রঙ ও শুকানোর মান ঠিক নেই দাবি করে ১০ হাজার টাকা মণের মরিচ আট হাজার টাকায় বেঁচতে বাধ্য করা হয়। আবার দালালের মাধ্যমে মরিচ বিক্রি করলে মান যাই হোক, দাম ভালো পাওয়া যায় বলে অভিযোগ তাদের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-সহাকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান বলেন, বগুড়ার লাল মরিচের আকর্ষণীয় রং, গুণগত মান ও ঝালের কারণে এর চাহিদা রয়েছে দেশ-বিদেশজুড়ে। বগুড়ায় স্থানীয়ভাবে এ মরিচ ২০ শতাংশ ব্যবহার হয়, অবশিষ্ট মরিচ দেশজুড়ে ও দেশের বাইরে ব্যবহার হয়ে থাকে। বগুড়ার মরিচের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের নামকরা কোম্পানিগুলো এই জেলার মরিচ কিনে থাকে। চাহিদা থাকায় ভালো দামও পান চাষিরা। স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে প্রতি মণ লাল মরিচ সাড়ে ৯ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বগুড়ার চরাঞ্চলের মরিচ মাঠ থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে একাধিক ধাপ পেরোতে হয়। কৃষক, আড়তদার, পাইকার বা কোম্পানি, তারপর প্রক্রিয়াজাতকরণ হয়ে খুচরা বাজার। এর প্রতিটি স্তরেই দাম বাড়তে থাকে, কিন্তু সবচেয়ে কম দাম পান কৃষক। মাঠ পর্যায়ে যে শুকনা মরিচ কৃষক ৭-৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেন, সেটিই পরবর্তী ধাপে বাছাই, সংরক্ষণ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাত হয়ে বাজারে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হয়। এই বাড়তি দামের বড় অংশটাই থেকে যায় মধ্যবর্তী স্তর, বিশেষ করে আড়তদার ও কোম্পানির হাতে। ফলে শতকোটি টাকার এই বাজারে উৎপাদনের দাম ঝুঁকি নেয়া কৃষক তুলনামূলক অনেক কম পাচ্ছেন। 

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/168011