তিস্তায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের দায়ে জাহাঙ্গীর গ্রেফতার
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীতে অবৈধ পাথর উত্তোলনের বহুল আলোচিত জাহাঙ্গীর আলম খানকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীর অন্তত ১০টি পয়েন্টে উচ্চ ক্ষমতার বোমা মেশিন বসিয়ে অবাধে পাথর উত্তোলন চলছিল। এসব কার্যক্রমের নেতৃত্বে ছিলেন গয়াবাড়ী ইউনিয়নের মৃত মোশারফ খানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম খান। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
এদিকে অবৈধ পাথর উত্তোলন ঘিরে সম্প্রতি টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে।পাথর উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সাথে উত্তোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ডিমলা থানায় একাধিক মামলা দায়ের হলেও এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন মূল অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর।
স্থানীয়দের দাবি, টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের বার্নির ঘাট, তেলীর বাজার, তিস্তা বাজার, চরখড়িবাড়ি ও দোহলপাড়া এলাকায় নদীর তলদেশে গভীর খাদ সৃষ্টি করে নির্বিচারে পাথর তোলা হচ্ছে। মাত্র এক মাস আগেও যেখানে ১৫-২০টি বোমা মেশিন সক্রিয় ছিল, বর্তমানে সেখানে অর্ধশতাধিক মেশিন দিয়ে দিনরাত পাথর উত্তোলন চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে নদীর তলদেশ কেটে নেওয়ায় তিস্তার স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত হচ্ছে এবং ভাঙনের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়ছে। গত বর্ষা মৌসুমেই ডিমলা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত ৬টিতে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দেয়। খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ছোটখাতা সুপারিটরি গ্রামে শত শত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে নতুন চ্যানেল তৈরি হয়েছে। অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।
ভাঙন রোধে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে সিসি ব্লক ও বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে জরুরি তীর রক্ষা কাজ করেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ না হলে আসন্ন বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/167723