রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আলুর উৎপাদন খরচ ১৮ টাকা বিক্রি ৫ টাকা, ক্ষতির মুখে কৃষক
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের চেংমারী ও কুড়িয়ার মোড় এলাকায় রাস্তার ধারে ও বাঁশঝাড়ে আলুর স্তুপ হয়ে পড়ে রয়েছে। প্রায় ২শ’ কৃষকের আলু পচে নষ্ট হয়ে বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কৃষকরা জানান, আগাম বৃষ্টিতে আলুর ক্ষতি হলেও ভালো দামের আশায় অনেকেই আলু বিক্রি না করে ঘরে মজুত রাখেন। কিন্তু বাজারে দাম না বাড়ায়, হিমাগারের সংকট এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সংরক্ষণ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত সেই আলু পচে যাচ্ছে।
উপজেলার কুড়িয়ার মোর এলাকার কৃষক চান মিয়া বলেন, হিমাগারে জায়গা পাওয়া যায় না, আর ভাড়া এত বেশি যে রাখা সম্ভব না। আলুর দামের চেয়েও হিমাগারের খরচ বেশি পড়ে। তাই বাধ্য হয়ে ঘরে রাখছি, আর এখন পচে যাচ্ছে।
ওই এলাকার কৃষক কাইয়ুম বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় ২শ’ কৃষক একই সমস্যায় পড়ছে। অনেকে ঋণ করে আলু আবাদ করছে, এখন সেই ঋণ কিভাবে শোধ করবে তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর এ উপজেলায় ৫ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, এ বছর এই উপজেলায় চাহিদার চেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হয়েছে। শুরুতে যাদের আলু তোলা হয়েছে তাদের ক্ষতি হয়নি, কিন্তু দেরিতে তোলা আলু বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আবহাওয়ার অস্থিরতা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/167574