স্বাধীন গণমাধ্যমের কাঠামো গড়তে সরকার কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী
স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো কিভাবে তৈরি করা যায় সে ব্যাপারে সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রোববার সকালে রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ উপলক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রধান সহযাত্রী স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।তিনি বলেন, রেগুলেশন মানে নিয়ন্ত্রণ নয়; বরং একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ফ্যাসিলিটেটরের ভূমিকা পালন করতে চায়। তাই গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত পরামর্শ কমিটির মতামতের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করা হবে।
তথ্য প্রযুক্তির এই অবাধ তথ্যপ্রবাহের চালেঞ্জিং সময়ে একটি স্ট্র্যাটেজিক পজিশন নিতে তথ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের নিয়ে একটি সম্মিলিত মঞ্চ তৈরির প্রস্তাব দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞকে সামনে রেখে আমরা একটি পরামর্শ কমিটি গঠন করব। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতেই চূড়ান্তভাবে ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সবাই মিলে একটি সুস্থ রেগুলেশন তৈরি করতে হবে। ব্রিটেন বা আমেরিকার মতো উন্নত দেশেও রেগুলেটরি বডি আছে। সরকার এখানে কোনো নিয়ন্ত্রক নয়, বরং একটি পক্ষ মাত্র। তারেক রহমানের সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সেই নীতিমালা নিতে চলছি, যেখানে সরকারের ভূমিকা হবে কেবল আইনি ও লজিস্টিক সহযোগিতা দেওয়া।গণমাধ্যম শিল্পে বিদ্যমান বিভিন্ন অসংগতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পত্রিকার সার্কুলেশন (ছাপার সংখ্যা) এবং টেলিভিশনের টিআরপি (টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট) নিয়ে বর্তমানে যা চলছে তা এক প্রকার প্রতারণা। কয়েক কোটি টেলিভিশন বক্সের বিপরীতে মাত্র কয়েকশ ডিভাইস দিয়ে টিআরপি নির্ধারণ করা হচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য বের করা কঠিন কিছু নয়। ডেটা ছাড়া কোনো তথ্যই আসলে তথ্য নয়, তা কেবল ব্যক্তিগত অভিমত।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, পত্রিকা মালিক, সম্পাদক ও মন্ত্রণালয় সবাই মিলে আমরা এমন একটি ব্যবস্থা মেনে নিচ্ছি, যা অস্বস্তিকর। যদি কোনো পক্ষ সত্য লুকাতে না চায়, তবে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থেকে আমরা একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই।
তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বিগত সরকারের আমলে গণমাধ্যমকে শত্রু হিসেবে দেখা হয়েছে। বর্তমান সরকার গণমাধ্যমকে দেশ গঠনে সহায়ক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে তা শক্তিশালী করতে কাজ করছে। স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো কিভাবে তৈরি করা যায় সে ব্যাপারে সরকার কাজ করছে। যেসব সাংবাদিক কারাগারে আছেন তাদের জামিন পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং নীতিগত ভাবে আইনের আওতায় সাংবাদিকদের পেশাগত সহায়তা দেয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া যে কোন গণমাধ্যমকে ফ্যাক্ট চেকিং এর মধ্য দিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের যে কোনও মামলা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্যে আনা হবে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা। সভায় আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম, দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক ও নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল ও দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ প্রমুখ। সভাটি সঞ্চালনা করেন প্রেস ইনস্টিটিউটটের মহাপরিচালক বাংলাদেশ (পিআইবি) ফারুক ওয়াসিফ।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। সকাল ৯টায় অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে র্যালি শুরু হয়ে তথ্য ভবন কমপ্লেক্সে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যম কর্মী ও তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/167496