৯ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে চিকিৎসক দম্পতি গ্রেফতার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৯ বছরের শিশু গৃহকর্মী আয়েশাকে নির্যাতনের অভিযোগে ডা. নোমান ও কিমিয়া সাদাত তোফা নামে এক চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে পৌর এলাকার উত্তর মৌড়াইল থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
নির্যাতনের শিকার শিশুটি বর্তমানে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরাইল উপজেলার পাকশিমুল এলাকার শিশু আয়েশা গত নয় মাস ধরে ওই চিকিৎসক দম্পতির বাসায় কাজ করত।
শিশুর বাবার অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে মেয়ের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি এবং সম্প্রতি জানানো হয় আয়েশা চুরি করে পালিয়ে গেছে। থানায় সাধারণ ডায়েরির পর পুলিশ ওই দম্পতির বাড়ির পাশ থেকেই আয়েশাকে উদ্ধার করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু আয়েশা তার ওপর হওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে জানায়, ঘর মুছতে দেরি হলে বা ভাত নরম হলে লাঠি দিয়ে মারত। এমনকি শরীরে গরম তেলের ছিটা দেওয়া হতো। তার সারা শরীরে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বজনরা।
অবশ্য নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক নোমান। তিনি বলেন, মেয়েটি আমার ঘরে গৃহপরিচারিকা হিসেবে নয়, সন্তানদের খেলার সাথী হিসেবে থাকতো। আমার স্ত্রী যখন গর্ভবতী তখন তাকে আনা হয়। দুই বছরের শিশু সন্তানের সঙ্গে সে খেলতো।
নোমান অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তিনি ট্রেনিংয়ের জন্য ফিলিপাইন যান। তবে তার স্ত্রী সন্তানেরা বাসায় ছিলো। ২২ এপ্রিল আয়েশা ঘরের আলমীরা থেকে দুই ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৭০ হাজার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে তিনি ফিলিপাইন থেকে চলে আসেন। এ বিষয়ে সদর থানায় অভিযোগ করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেয়েটির নাম-ঠিকানা সঠিকভাবে জেনে নিয়ে আসার জন্য। ঠিক এরপরই তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই শিশুর বাবা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এরই প্রেক্ষিতে চিকিৎসক দম্পতিকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে ওই দম্পতি শিশুর বিরুদ্ধে চুরির কোনো অভিযোগ দেননি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/167242