বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে অবশেষে কেনা হলো অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন
স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘ ৬ মাস অপেক্ষার পর অবশেষে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে এসে পৌঁছেছে কুকুর বা বিড়ালের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন (এআরভি)। গত ২৭ এপ্রিল জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার ভায়াল ভ্যাকসিন কেনা হয়েছে, যা দিয়ে প্রায় দুই মাস রোগীদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতালে এই গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিনের সংকট ছিল। সম্প্রতি এই সংকট নিয়ে স্থানীয় দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি নজরে আসার পর নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল প্রশাসন। দ্রুত সময়ের মধ্যে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংস্থান করে ভ্যাকসিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুজিদুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মূলত হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য ৬ জন আনসার সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছিল।
কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় তাদের বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অলস পড়ে ছিল। জনস্বার্থ বিবেচনা করে ওই বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ‘এমএসআর’ (মেডিক্যাল সার্জিক্যাল রিকুইজিশন) কোড দেখিয়ে এই ১ হাজার ভায়াল অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন কেনা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক আরও বলেন, “আপাতত দুই মাস এই মজুত দিয়ে চালানো যাবে। এর মধ্যে যদি আনসার নিয়োগ না হয়, তবে অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে আরও কিছু ভ্যাকসিন কেনা সম্ভব হবে। অন্যথায় নিয়ম অনুযায়ী বেঁচে যাওয়া টাকা মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হবে।
দীর্ঘ ৬ মাস ভ্যাকসিন না থাকায় দরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের চড়া মূল্যে বাইরে থেকে এই টিকা কিনতে হতো। সরকারি হাসপাতালে পুনরায় এই সেবা চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
উল্লেখ্য, ‘অ্যান্টি র্যাবিস টিকার তীব্র হাহাকার, বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ছয়মাস ধরে সরবরাহ বন্ধ’ এই শিরোনামে দৈনিক করতোয়ায় গত ১৯ এপ্রিল একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/167239