নীলফামারীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের আল্টিমেটাম  

নীলফামারীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের আল্টিমেটাম  

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া এলাকায় তিস্তা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রতিরক্ষা ডানতীর গাইডবাঁধ অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে বাঁধটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে বড় ধরণের দুর্যোগের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

ফলে তিস্তা বাঁধ রক্ষায় চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ থেকে পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ জিরো পয়েন্ট টি-হেড পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিরক্ষা বাঁধটি ১৯৭২ সালে নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও সাম্প্রতিক অবৈধ দখলের কারণে বাঁধটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁধের ওপর ও দু’পাশে দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে শতাধিক কাঁচা-পাকা স্থাপনা। কোথাও খড়ের গাদা, কোথাও গবাদিপশুর বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ফলে বাঁধের মাটি দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি ইঁদুর ও পোকামাকড়ের কারণে বাঁধের ভেতরে অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে, যা বাঁধের স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।
গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি যৌথ প্রতিনিধি দল বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরানুজ্জামান অবৈধ দখলদারদের সাথে মতবিনিময় করে দ্রুত স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন।

তিনি জানান, জাতীয় স্বার্থে বাঁধ রক্ষার লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী মাইকিং করা হবে এবং দখলকৃত জমির সীমানা চিহ্নিত করে লাল পতাকা স্থাপন করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা অপসারণ না করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, বাঁধটির জরুরি সংস্কারের জন্য আনুমানিক এক কোটি টাকা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে ১ হাজার ২৫০ মিটার বাঁধ সংস্কারের জন্য ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে অবৈধ দখলমুক্ত না হলে টেকসই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ বিলম্বিত হলে আসন্ন বর্ষায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এতে তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত একাধিক বিজিবি ক্যাম্প হুমকির মুখে পড়তে পারে।

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/167225