বিশ্বে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে বলে জানিয়েছে প্যারিসভিত্তিক সংস্থা ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’ (আরএসএফ)। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বিষয়ে কাজ করা সংস্থাটির বার্ষিক ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’-এ এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
আরএসএফ প্রতি বছর বিশ্বের ১৮০ দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অবস্থা মূল্যায়ন করে থাকে। পাঁচ স্তরের সূচকে দেশগুলোকে ‘খুবই খারাপ’ থেকে ‘ভালো’ পর্যন্ত শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। এবারের প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো দেখা গেছে, বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি দেশ এখন ‘কঠিন’ বা ‘খুবই গুরুতর’ অবস্থায় রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এটি প্রমাণ করে যে বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকতা ক্রমেই অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মাত্র সাতটি (বেশিরভাগ নর্ডিক) দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ‘ভালো’ অবস্থায় আছে। তালিকার শীর্ষ তিনে রয়েছে নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস এবং এস্তোনিয়া।
ফ্রান্স ২৫তম স্থানে থেকে ‘সন্তোষজনক’ অবস্থানে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ৬৪তম, যা ‘সমস্যাজনক’ হিসেবে চিহ্নিত। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির অবস্থান সাত ধাপ নেমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরএসএফ বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সমালোচনাকে নীতিগত অবস্থানে রূপ দিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদ কাভার করতে গিয়ে সালভাদোরীয় সাংবাদিক মারিও গুয়েভারাকে আটক ও পরে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি, একাধিক সরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
লাতিন আমেরিকায় আর্জেন্টিনা ও এল সালভাদরের অবস্থার অবনতি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। আর্জেন্টিনায় হাভিয়ের মিলেই ক্ষমতায় আসার পর দেশটির অবস্থান ১১ ধাপ নেমে ৯৮তম হয়েছে। অন্যদিকে অপরাধী গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পর এল সালভাদরের অবস্থান ২০১৪ সালের তুলনায় ১০৫ ধাপ নিচে (১৪৩তম) নেমে গেছে।
পূর্ব ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যকে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারিকায় তলানিতে থাকা ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে রাশিয়া (১৭২তম) এবং ইরান (১৭৭তম)। ইসরায়েলকে রাখা হয়েছে ১১৬তম স্থানে।
আরএসএফ জানায়, যুদ্ধ, তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা এবং সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ—এসবই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কমার প্রধান কারণ। গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে সাংবাদিকদের ওপর হামলার উদাহরণ তুলে ধরে সংস্থাটি বলেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় দুই শতাধিক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৭০ জন দায়িত্ব পালনকালে নিহত হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এখন একটি বৈশ্বিক প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের ৬০ শতাংশেরও বেশি দেশে (১৮০টির মধ্যে ১১০টি) গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্নভাবে অপরাধী সাব্যস্ত করা হচ্ছে। এর বড় উদাহরণ হিসেবে ভারত (১৫৭তম), মিশর (১৬৯তম), জর্জিয়া (১৩৫তম), তুরস্ক (১৬৩তম) এবং হংকংয়ের (১৪০তম) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সংস্থাটির সম্পাদকীয় পরিচালক অ্যান বোকান্দে বলেন, বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতাকে অপরাধে পরিণত করার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/167221