দিনাজপুরে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ৮১২ হেক্টর জমিতে গম চাষ
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: জেলায় এ বছর লক্ষ্য মাত্রার অতিরিক্ত ৮১২ হেক্টর জমিতে গম চাষ অর্জিত হয়েছে। মূলত চৈত্র মাসের শেষের দিকে গম কাটা শুরু হয়ে যায়। আর এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের কৃষকরা এরইমধ্যে গম কাটা ও মাড়াই শুরু করেছেন।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, এবার দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলাতেই গমের অধিক ফলন হয়েছে। চলতি বছর জেলায় ৭ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধায়ন এবং কৃষকদের সার্বিক বিষয়ে পরামর্শ দেয়ায় অতিরিক্ত ৮১২ হেক্টর জমিতে গম চাষ অর্জিতসহ মোট ৮ হাজার ৮৭ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মনে স্বস্তি ফিরেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে গম চাষে আবার আগ্রহ বাড়ছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিন থেকে জেলার ১৩টি উপজেলাতেই ক্ষেতের গম পরিপক্ক হওয়ায় কৃষকরা গম কাটা ও মাড়াইকরণে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। শুষ্ক মৌসুম ও গম মাড়াইয়ের উপযুক্ত আবহাওয়া থাকায় কৃষকরা তাদের ক্ষেতের গম মাঠ থেকে ঘরে তুলে মাড়াইয়ের কাজ এরইমধ্যে শুরু করেছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই গম মাড়াইয়ের কাজ শেষ করতে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই বর্ষা শুরুর পূর্বেই গম মাড়াইয়ের কাজ চলছে।
কৃষি বিভাগের সূত্রটি জানায়, কম পরিশ্রম ও ভালো ফলন হওয়ায় গম চাষে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন। প্রতি বিঘা জমিতে গম চাষে খরচ হয় ৬ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। তাই অল্প শ্রম আর স্বল্প ব্যয়ে কৃষকরা কৃষি বিভাগের উদ্ভাবনকৃত অধিক ফলনশীল ও উন্নত জাতের বারি ২৫, বারি ২৬, বারি ২৮, বারি ৩০ ও বারি ৩১ জাতের গম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
বিরল উপজেলার ফারাক্কাবাঁধ গ্রামের গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, ৭৫ শতক জমিতে অধিক ফলনশীল উন্নত জাতের গম আবাদ করেছি। এবার ৩৮ মণ গম উৎপাদন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারে জমিতে অধিক গমের ফলন হয়েছে। ভালো লাভ হবে আশা করছি।
দিনাজপুর গম গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক মো. আরিফুজামান জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর গমের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর জেলায় ৬ হাজার ৫৭১ হেক্টর জমিতে কৃষকরা গম চাষ করেছিল।
তিনি জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তা বৃদ্ধি করে চলতি বছর ১৩টি উপজেলায় ৭ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। এবারে গম চাষ অর্জিত হয়েছে ৮ হাজার ৮৭ হেক্টর জমিতে। আগামীতে আরো গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি করতে উন্নত জাতের গমের বীজ সরবরাহ করে অধিক ফলন অর্জনে কৃষকদের উৎসাহ বৃদ্ধি করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। যাতে গমের চাহিদা মেটাতে গম আমদানি করতে না হয়, সে বিষয়টি বাস্তবায়নে কৃষি বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
জেলার হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজিনা বেগম জানান, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনসহ মানবদেহে পুষ্টিকর খাদ্য বৃদ্ধি ও উৎপাদন কাজে সহায়তা করতে উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তা, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। গম চাষে সরকারিভাবে সার, বীজ ও প্রণোদনা দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/167209