বগুড়া শহরে পকেটমারদের দৌরাত্ম প্রতিরোধে দেয়ালে সতর্কীকরণ পোস্টার

বগুড়া শহরে পকেটমারদের দৌরাত্ম প্রতিরোধে দেয়ালে সতর্কীকরণ পোস্টার

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া শহরে পকেটমারদের দৌরাত্ম বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই পকেটমারদের খপ্পরে পড়ে কারো না কারোর টাকা বা মোবাইল ফোন খোয়া যাচ্ছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা ও দত্তবাড়ী এলাকায় এদের দৌরাত্ম সবচেয়ে বেশি। পকেটমারদের কবল থেকে রক্ষা পেতে দত্তবাড়ি সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড এলাকায় সতর্কীকরণ পোস্টার দেয়ালে সাঁটা হয়েছে।

বগুড়া জেলা সিএনজি ও অটোরিকশা মালিক সমিতি, দত্তবাড়ী বণিক সমিতি ও আনু মেমোরিয়াল ক্লাব বগুড়ার উদ্যোগে দেয়ালে সাঁটানো সতর্কীকরণ পোস্টারে বলা হয়েছে- ‘দত্তবাড়ী এলাকার সকল ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী সাধারণকে সতর্ক করা যাচ্ছে যে, অত্র এলাকায় পকেটমার ও মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ অবস্থায় আপনাদের টাকা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ হেফাজতে রাখুন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বগুড়া শহরে পকেটমার চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের একটি বড় অংশ বসবাস করে শহরের উত্তর চেলোপাড়ার সান্দারপট্টি এলাকায়। ভুক্তভোগীরা জানান, সান্দারপট্টি থেকেই প্রতিদিন পকেটমাররা দত্তবাড়ি ও সাতমাথা এলাকায় এসে পকেট থেকে টাকা বা মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়।

বিশেষ করে সাতমাথা ও দত্তবাড়ি এলাকায় যখন যানজট ও ভিড় হয় তখন সেই সময়কে কাজে লাগায় পকেটমাররা। সাতমাথায় জিরো পয়েন্টে রাস্তা পারাপারের সময় পকেটমারা পথচারীদের পিছু লাগে এবং সুযোগ বুঝে পকেট থেকে টাকা বা মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। হাতিয়ে নেয়ার পর হাত বদলের মাধ্যমে টাকা ও মোবাইল ফোন তাদের গন্তব্যে নিয়ে যায়।

এছাড়া দত্তবাড়িতে যাত্রীরা যখন সিএনজিচালিত আটোরিকশা বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ওঠানামা করে তখন পকেটমাররা তাদের কাজ সাধন করে। শুধু সাতমাথা ও দত্তবাড়ী এলাকাই নয়, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, হাড্ডিপট্টি আন্তঃথানা বাস টার্মিনাল, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেট, রাজাবাজার ও ফতেহ আলী বাজারসহ বিভিন্ন জনাকীর্ণ এলাকায় প্রায়ই পকেটমারের কবলে পড়ে মানুষের টাকা, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য জিনিসপত্র খোয়া যাচ্ছে।

দত্তবাড়ি বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, দত্তবাড়ী এলাকায় পকেটমার ও মাদক ব্যবসায়ীদের অত্যাচার উপদ্রবে মানুষ অতিষ্ট। পাশাপাশি এলাকা হওয়ায় দত্তবাড়ী ব্রিজ পার হয়ে এসে পকেটমার ও সন্ত্রাসীরা দত্তবাড়ীতে এসে তারা তান্ডব চালায়। দত্তবাড়ী সিএনজি আটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকে জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল ও এ্যাজমা কেয়ার পর্যন্ত পকেটমারদের দৌরাত্ম বেশি। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পকেটমাররা সক্রিয় থাকে।

পথচারী ও যাত্রীদের টার্গেট করে তারা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে বা পকেট মেরে নিয়ে যায়। গত তিনদিন আগেও এক ব্যক্তির ব্যাগ কেটে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে। তাই জনসচেতনতা বাড়াতে দেয়ালে দেয়ালে সতর্কীকরণ পোস্টার লাগানো হয়েছে। সেইসাথে পকেটমারদের গ্রেফতারে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

দত্তবাড়ী সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি আহসান উদ্দিন সাগর বলেন, আমরা পকেটমার ও সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। পকেটমাররা ৮-১০ জন করে দল বেঁধে এসে মানুষের কাছ থেকে মালামাল কেড়ে নিচ্ছে।

আবার ব্লেড দিয়ে পকেট বা ব্যাগ কেটে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। দত্তবাড়ী সিএনজিস্টান্ডে পকেটমারদের প্রধান টার্গেট হলো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। পকেটমাররা তাদের কাছ থেকেই বেশি ব্যাগ কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, পকেটমারদের অত্যাচারে তারা অতিষ্ট। এ ব্যাপারে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

দত্তবাড়ী আনু মেমেরিয়াল ক্লাবের সভাপতি আহসানুর রশিদ ডাবলু বলেন, দত্তবাড়িতে পকেটমার চক্র এতোটাই দুর্ধর্ষ যে ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে কেউ সাহস পান না। পকেটমারদের একজন ধরা পড়লে পাশের গ্রাম উত্তর চেলোপাড়ার সান্দারপট্টি থেকে ১০-১২ জন এসে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ক’দিন আগে তিনি নিজেও পকেটমার চক্রের কবলে পড়েছিলেন।

তারা খুবই দুর্ধর্ষ। তাদের হাতে যাত্রী সাধারণ, ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। তবে ওই পকেটমার ঠেকাতে জনগণকে সচেতন করতে ওই সতর্কীকরণ পোস্টার দত্তবাড়ির সিএনজিস্ট্যান্ড বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে। তিনি বলেন, এলাকাটি সদর পুলিশ ফাঁড়ির আওতায় থাকলেও তারা কোন সহযোগিতা করছে না। তাই আগামীকাল বুধবার বেলা ১ টায় আমরা নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দিবো।

এ ব্যাপারে বগুড়া সদর থানার ওসি মো. ইব্রাহীম আলী বলেন, পকেটমার, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সদর থানা পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। পকেটমারদের তালিকা ধরে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, প্রতিমাসে চাকুসহ ৭/৮ জন করে সন্ত্রাসী ও পকেটমার ধরা পড়ে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/166947