মিয়ানমারে পাচারকালে ৯০০ বস্তা সিমেন্টসহ ১৪ জন আটক

মিয়ানমারে পাচারকালে ৯০০ বস্তা সিমেন্টসহ ১৪ জন আটক

কক্সবাজারের টেকনাফ-সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৯০০ বস্তা সিমেন্ট ও বোটসহ ১৩ জনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড।

আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় বিসিজি স্টেশন টেকনাফ বোট পুলে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লেফট্যানেন্ট আরাফাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিন বলেন, গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোর ৪টায় বিসিজি স্টেশন সেন্টমার্টিন কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সন্দেহজনক একটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৯০০ বস্তা সিমেন্ট ও পাচার কাজে ব্যবহৃত বোটসহ ১৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।

আরাফাত হোসেন বলেন, পরবর্তীতে, আটক বোট মাঝি চাঁন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিনে বিকেল ৫টায় কোস্ট গার্ড ও র‍্যাব-১৫ (সিপিসি-২) এর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে মায়ানমারে পণ্য পাচারের অন্যতম মূলহোতা মো. আজিম উল্লাহকে আটক করা হয়।

কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার বলেন, আটক মো. আজিম উল্লাহ কক্সবাজারের উখিয়া, বালুখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সে দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত। সে মিয়ানমারে অবস্থানকারী আনোয়ার নামক ব্যক্তির থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা গ্রহণ করে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া এলাকার বিভিন্ন অসাধু বোট মালিকের সহযোগিতায় পণ্য মিয়ানমারের নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মির’ কাছে পাচার করে আসছিল।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া, জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গেছে, পাচারের বিনিময়ে সে প্রায়ই মাদক, বিদেশি সিগারেটসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেষ্টা করত। পাশাপাশি, তার মুঠোফোন পর্যালোচনা করে এ সকল পাচারকাজের মাধ্যমে প্রাপ্ত কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের সমন্বিত অভিযানে এই পাচার সিন্ডিকেটের অন্যতম মূলহোতা মো. আজিম উল্লাহকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। এ চক্রের সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আরাফাত হোসেন বলেন, জব্দকৃত সিমেন্ট, বোট ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনিব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাচার ও চোরাচালান রোধে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/166864