সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর মাছের চাহিদা দেশব্যাপী
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর সুস্বাদু মাছে চাহিদা রয়েছে দেশব্যাপী। প্রতিদিন জেলেরা নদী থেকে এই সব মাছ ধরে ভোরে বিক্রি করতে আনে স্থানীয় মতি সাহেবের ঘাটে। এই মাছকে ঘিরেই ভোর হতেই নদীর পাড়ে বসে জমজমাট নিলামের বাজার যেখানে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর থাকে পুরো এলাকা।
ভোরের আলো ফুটতেই নদীর চরএলাকা থেকে মাছ ভর্তি নৌকা এসে ভিড়ে নদী পারে। একে একে ওঠানো হয় বোয়াল, চিতল, আইড়, ট্যাংরা, গুলশা, চিংড়ি, বাইলা, পুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এরপরই শুরু হয় নিলাম, চলে ক্রেতাদের হাঁকডাক।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মতি সাহেবের ঘাট এলাকায় অর্ধশতাধিক বছর ধরে এই ঘাটেই বসে এই মাছের বাজার। নির্দিষ্ট কোনো আধুনিক মৎস্য আড়ত না থাকলেও প্রতিদিন ভোরে এখানে ভিড় করেন রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকার খুচরা বিক্রেতা। হোটেল ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারাও টাটকা নদীর মাছের আকর্ষণে সকাল সকাল ছুটে আসেন এই ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মতিন সাহেবের মাছঘাটে কাজলি, বাতাসি, বোয়াল, টেংরা, গোসাসহ বিভিন্ন সুস্বাদু নদীর মাছ পাওয়া যায়। তাজা মাছের জন্য এই ঘাটে প্রতিদিনই মানুষের ভিড় লেগে থাকে। মাছ বিক্রেতা সোলায়মান হোসেন জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে এই বাজারে চলে বেচাকেনা। এই বাজারে বড় বোয়াল, আইড়, রুই, কাতলা মাছের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪শ’ থেকে ২ হাজার টাকা। ছোট মাছ বিক্রি হয় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকা কেজি।
বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়ে থাকে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম (দায়িত্বপ্রাপ্ত) জানান, যমুনা নদীতে দেশি মাছের যে প্রাচুর্য রয়েছে তার একটি বড় অংশই এই ঘাটে আসে। প্রতিদিন জেলেরা রাতভর মাছ ধরে ভোরে এখানে নিয়ে আসেন। ঘাটটি উন্নত না হলেও জেলেদের ব্যাপক অংশগ্রহণ রয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, মাছ ঘাটটি আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নয়ন করা হলে জেলেরা আরও ভালো সুবিধা পাবেন এবং ক্রেতাদের জন্যও পরিবেশ আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে যমুনা নদীতে মাছের প্রাচুর্যে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও জেলেদের জীবিকায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তবে এই উৎপাদন টেকসই রাখতে সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/166813