দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে নানা টালবাহানায় আটকে আছে সড়ক সংস্কারের কাজ
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্নের এক বছর পার হলেও গুরুত্বপূর্ণ এক বাজার সড়কের সংস্কারকাজ এখনও আলোর মুখ দেখেনি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের টালবাহানায় থমকে থাকা সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ।
আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে ভরে গিয়ে পুরো সড়ক কাদায় পরিণত হয়। বাজারের ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা এলাকার মহিবুল সরকার বলেন, রানীগঞ্জ বাজার আশেপাশের কয়েকটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ বাজার হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে। বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা পণ্যসামগ্রী এই বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসে। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় ভ্যান-রিকশা চলতে চায় না, এতে আর্থিক ক্ষতির স্বীকার হচ্ছেন তারা।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রানীগঞ্জ বাজারের মন্দির মার্কেট থেকে করতোয়া নদীর নুনদহঘাট ব্রিজ অতিক্রম করে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় সোয়া চার কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সড়কটির ‘রি-সিল’ পদ্ধতিতে কাজ বাস্তবায়নের জন্য ৭৮ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত বছর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। তবে পুরনো পিচ অপসারণের কার্যক্রম কয়েকদিন চললেও অজানা কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।
উপজেলা প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, কাজটি দ্রুত শুরুর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার নোটিশ ও মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এরপর থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অজুহাতে কাজ শুরু না করে সময়ক্ষেপণ করে আসছে। বিষয়টি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর অবগত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু না করায় কয়েকবার মৌখিক ও লিখিত নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পক্ষান্তরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় এবং কাজ শুরু না করায় টেন্ডারটি বাতিলের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
বাতিল হলে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়া হবে। এদিকে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজের কর্ণধারের নাম শুধু সিদ্দিক জানতে পারলেও যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিতে পারেনি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/166793