আপনারা কি শচীনকে ছক্কা মেরে দেখাতে বলেন—আচমকাই মেজাজ হারিয়ে কৈলাস খের

আপনারা কি শচীনকে ছক্কা মেরে দেখাতে বলেন—আচমকাই মেজাজ হারিয়ে কৈলাস খের

বিনোদন জগতে বিভিন্ন কনসার্ট অথবা অনুষ্ঠানে সংগীতশিল্পীদের গান গাওয়ার অনুরোধ করার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। এ রকম দৃশ্য প্রায়ই সর্বত্র দেখা যায়। এমনকি কোনো সংগীতশিল্পীই কোনো রিয়ালিটি শোয়ে যদি যান, সে ক্ষেত্রেও তাদের পারফর্ম করার অনুরোধ করা হয়, যেটা হাসিমুখেই রাখেন সেই শিল্পী। কিন্তু এবার একটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে বলায় রীতিমতো মেজাজ হারিয়ে ফেললেন সংগীতশিল্পী কৈলাস খের।

এ সংগীতশিল্পী কোকা-কোলা, সিটি ব্যাংক, পেপসি, আইপিএল এবং হোন্ডা মোটরসাইকেলের মতো ব্র্যান্ডের জন্য জিঙ্গেল রেকর্ড করার মাধ্যমে তিনি নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন। ২০০৩ সালে ‘ওয়াইসে ভি হোতা হ্যায় পার্ট ২’ সিনেমার ‘আল্লাহ কে বান্দে’ গানটির মাধ্যমে তিনি ব্যাপক সাফল্য লাভ অর্জন করেন। ২০০৪ সালে তিনি পরেশ ও নরেশ কামাথ ভাইদের সঙ্গে ‘কৈলাসা’ নামে তার ব্যান্ড গঠন করেন এবং ২০০৬ সালে তাদের প্রথম অ্যালবামে ‘তেরি দিওয়ানি’ গান, যা ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় গানে পরিণত হয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ‘সালাম -এ-ইশক: এ ট্রিবিউট টু লাভ’ থেকে ‘ইয়া রাব্বা’, ‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’ থেকে ‘কৌন হ্যায় ভোহ’ এবং ‘বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন’ থেকে ‘জয় জয়করা’ ও ‘জল রহি হ্যায় চিতা’সহ আরও অনেক হিট গান উপহার দিয়েছেন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিল্লিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হয়ে এসেছিলেন কৈলাস খের। নির্দিষ্ট একটি বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্যই তিনি সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু আলোচনার মধ্যেই হঠাৎ করে যখন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক কৈলাসকে গান গাওয়ার অনুরোধ করেন, ঠিক তখনই রীতিমতো রেগে যান এ সংগীতশিল্পী।

কৈলাস খের বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আমি আপত্তি করতে চাই— দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই বিষয়টি। এবার এটা পাল্টানো দরকার। এক লাইন গেয়ে দিন, যে কোনো মঞ্চে উঠলেই শিল্পীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়। কিন্তু আমার মনে হয় এবার এটা বন্ধ করা দরকার। এমন আচরণ যেন আর কেউ না করেন।

এ সংগীতশিল্পী বলেন, আপনারা কি শচীন টেন্ডুলকারকে কখনো বলবেন যে, একটা ছক্কা মেরে দেখান? নিশ্চয়ই বলবেন না। পৃথিবীতে অন্য কারও সঙ্গে কেন কেউ এ রকম আচরণ করেন না। শুধু শিল্পীদের সঙ্গে কেন করা হয়? শিল্পীদের জোকার হিসেবে দেখাটা বন্ধ করা হোক বলে জানান কৈলাস খের।

সংগীতশিল্পীর এমন বক্তব্যে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেন মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক নেটিজেন বলেছেন— যদি দুই লাইন গান গেয়ে কারও মুখে হাসি ফোটানো যায়, তাহলে সেটা অন্যায় কিছু নয়। আরেক নেটিজেন বলেছেন— যদি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি আপনাকে এমন কথা বলতেন, তাহলে হয়তো আপনি আপত্তি করতেন না। তৃতীয় নেটিজেন সহমত পোষণ করে বলেছেন— একদম ঠিক কথা বলেছেন, আপনারা তখন ঠিক গান গেয়ে দিতেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/166730