ওজন কমানোর ‘ম্যাজিক’ টনিক

ওজন কমানোর ‘ম্যাজিক’ টনিক

ওজন কমানোর নানান পানীয় এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে টিকটক ও পিন্টারেস্টের নানা ধরনের ‘ম্যাজিক’ টনিক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্যকর ফল পেতে প্রয়োজন পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ পানীয়। যেগুলো ক্ষুধা কমায়, পেট ভরা রাখে এবং শরীরের ক্যালোরি পোড়াতে সহায়তা করে।

ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করবে। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। ক্ষুধা কমাবে। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখবে। হজমে সাহায্য করবে।
এই তালিকার অনেক পানীয়তে আছে চিয়া বীজ, আপেল সিডার ভিনেগার, গ্রিন টি, আদা, লেবু, দারচিনি, শসা, পুদিনা ইত্যাদি। এগুলো শরীরের কিছু হরমোন সক্রিয় করতে পারে। যেমন জিএলপি-১। এই হরমোন ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে।

গ্রিন টি

সব পানীয়ের মধ্যে গ্রিন টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণা করা হয়েছে। এটি শুধু জনপ্রিয়ই নয়, এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। এতে আছে ইজিসিজি নামে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি শরীরে চর্বি কমাতে সাহায্য করে, মেটাবলিজম বাড়ায়। বিশ্রামরত অবস্থাতেও ক্যালোরি পোড়াতে পারে। এতে থাকা ক্যাফেইন ধীরে ধীরে শক্তি দেয়। গ্রিন টি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ক্ষুধা কমায়। তাই খাবারের মাঝখানে বা খাওয়ার আগে এটি খাওয়া ভালো। এটি নিয়মিত খেলে ভালো ফল পেতে পারেন।

আপেল সিডার ভিনেগার 

এই পানীয় ক্ষুধা কমায়। রক্তে শর্করা ঠিক রাখে। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এটি খুব পরিচিত, সহজ ও কার্যকর। এতে আছে অ্যাসেটিক এসিড। এটি রক্তে শর্করা কমাতে সাহায্য করে। ইনসুলিনের কর্মদক্ষতা বাড়ায়। পেট ভরা থাকার অনুভূতি বাড়ায়।  খাওয়ার আগে খেলে ক্ষুধা কমে, বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট বেশি এমন খাবারের ক্ষেত্রে। সাধারণত ১ চামচ ভিনেগার, লেবুর রস আর সামান্য দারচিনিকে পানির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া হয়। তবে এটি বেশি খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। দাঁতের ক্ষতিও হতে পারে। তাই দিনে একবার, পানি মিশিয়ে খাওয়া ভালো।

চিয়া লেমনড

এতে আছে অনেক ফাইবার, যা পেট ভরা রাখে। চিয়া বীজ পানি শোষণ করে ফুলে যায়। এতে জেলির মতো অবস্থা হয়। এতে হজম ধীর হয়। ক্ষুধা কমে। লেবুর রসে আছে ভিটামিন সি, যা হজমে সাহায্য করে। এক গ্লাস পানিতে ১ চামচ চিয়া বীজ আর লেবুর রস মিশিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। তারপর পান করুন।

কটেজ চিজ স্মুদি

এতে প্রোটিন বেশি। ক্ষুধা কমায়। পেশি গঠনে সাহায্য করে। এই স্মুদি অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখে। এতে চিনি কম থাকে। লো-ফ্যাট কটেজ চিজ দিয়ে এটি বানানো হয়। এতে ধীরে হজম হতে পারে এমন প্রোটিন থাকে। এর সঙ্গে বেরি, বাদাম দুধ, দারচিনি মেশানো যায়। এতে ক্যালসিয়াম ও উপকারী ব্যাকটেরিয়াও আছে। সকালের নাশতা বা ব্যায়ামের পর এটি খাওয়া ভালো।

লেবু-আদা পানি

এটি হজমে সাহায্য করে। পেট ফাঁপা ভাব কমায়। লেবুতে আছে ভিটামিন সি। আদায় আছে প্রদাহ কমানোর উপাদান। দুটি মিলে মেটাবলিজম বা বিপাক বাড়াতে সাহায্য করে। সকালে খেলে ভালো হয়। খাবারের আগে খেলেও ক্ষুধা কমে।

দারচিনি ও দুধ

দারচিনি রক্তে শর্করা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। গরম দুধে দারচিনি মিশিয়ে খেলে শরীর প্রশান্ত হয়। এতে রাতের ক্ষুধা কমে। ঘুমও ভালো হয়। ঘুম ভালো হলে ওজন কমানোও সহজ হয়।

শসা-পুদিনা ডিটক্স পানি

এটি শরীর ঠাণ্ডা রাখে। পানি সরবরাহ বাড়ায়। শসায় পানি বেশি থাকে। এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও আছে। পুদিনা হজমে সাহায্য করে। ক্ষুধা কমায়। এক জগ পানিতে শসা আর পুদিনা দিয়ে ঠাণ্ডা করে পান করতে পারেন।

দারচিনি কফি

এটি শক্তি বাড়ায়। চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে। কফির ক্যাফেইন মেটাবলিজম বাড়ায়। দারচিনি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এতে অতিরিক্ত চর্বি জমা কমে। এতে আলাদা চিনি না দিলেও স্বাদ ভালো লাগে।

প্রাকৃতিক জেপবাউন্ড রেসিপি

এই পানীয়ও ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। এটি এখন অনেক জনপ্রিয়। এতে আছে চিয়া বীজ, ভিনেগার, লেবু, আর সামান্য ঝাল মরিচ গুঁড়া। এই উপাদানগুলো মিলে ক্ষুধা কমায়। পেট ভরা রাখে। এটি কোনো ওষুধের বিকল্প নয়। তবে অনেকের জন্য এটি ভালো প্রাকৃতিক উপায়।

মাচা পানীয়

এটি মেটাবলিজম বাড়ায়। চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে। মাচা হলো গুঁড়া করা চাপাতা। এতে গ্রিন টির চেয়ে বেশি উপকারী উপাদান থাকে। এটি ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের সময়ও কাজে দেয়। এতে থাকা এল-থিয়ানিন মনোযোগ বাড়ায়।

আজকাল নানান ট্রেন্ডে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। তবে সঠিক খাবার আর নিয়মিত ব্যায়াম আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবে। পেট ভরা রাখবে। পর্যাপ্ত পুষ্টি ও শক্তি দেবে। আর লক্ষ্য ঠিক রাখতে সহায়তা করবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/166726