নাটোরে ৭ বছরের শিশুর নামে ‘হত্যা চেষ্ট’ মামলা, আদালতে জামিন, নথিপত্রে ২১, বাস্তবে ১ম শ্রেণির ছাত্র

নাটোরে ৭ বছরের শিশুর নামে ‘হত্যা চেষ্ট’ মামলা, আদালতে জামিন, নথিপত্রে ২১, বাস্তবে ১ম শ্রেণির ছাত্র

নাটোর প্রতিনিধি : খাতা-কলমে বয়স ২১ বছর, তকমা লেগেছে ‘হত্যা চেষ্টা’ মামলার আসামির। অথচ শ্রেণিকক্ষে সে কেবল প্রথম শ্রেণির পাঠ নিচ্ছে। নাটোরের গুরুদাসপুরের ৭ বছরের শিশু হোসেন আলীকে নিয়ে এমনই এক লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়েছেন প্রতিবেশী শাহানুর রহমান।

অবশেষে আদালতের হস্তক্ষেপে জামিন পেল সেই শিশুটি। রোববার দুপুরে নাটোর নারী ও শিশু আদালতের বিচারক মোঃ রফিকুল ইসলাম হোসেন আলীর জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানির সময় শিশুর প্রকৃত বয়স এবং জন্মসনদ (জন্ম তারিখ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮) উপস্থাপন করা হলে আদালত বিষ্ময় প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ৭ বছর বয়সী শিশুকে ২১ বছর বয়স দেখিয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি করায় বাদিকে কারণ দর্শনোর নোটিশ প্রদানর নির্দেশ দেন।

শিশু হুসেন আলী জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের উদবাড়িয়া গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে। সে ধারাবারিষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আসামি পক্ষের আইনজীবী মোঃ শামীম হোসেন জানান, চলতি বছরের গত ৯ এপ্রিল গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবণ সরকারের সাথে স্থানীয় শিশু-কিশোরদের মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শ্রাবণ সরকারের বাবা শাহানুর রহমান বাদি হয়ে ১০ এপ্রিল গুরুদাসপুর থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় ৭ বছরে শিশু হোসেন আলীকে ২১ বছর দেখিয়ে আসামি করা হয়। রোববার দুপুরে ওই শিশু শিক্ষার্থীকে নাটোর নারী ও শিশু আদালতের বিচারকের সামনে তথ্য প্রমাণ সহ জামিনের জন্য উপস্থাপন করা হলে বিচারক এই আদেশ দেন।

এদিকে শিশুটির জন্মসনদে দেখা যায়, তার জন্ম ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে। সে অনুযায়ী বর্তমানে তার বয়স সাত বছর। শিশু হোসেন আলীর স্কুলের প্রধান শিক্ষকও বয়সের ব্যাপারে একই প্রত্যয়ন দিয়েছেন। প্রত্যয়নে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করেছেন-গত ৯ এপ্রিল প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী হোসেন আলী সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত শ্রেণি কক্ষেই উপস্থিত ছিল।

স্থানীয় সুত্র জানায়, মামলায় শিশুর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এমন বয়সের একটি শিশুকে কীভাবে হামলা বা সংঘর্ষের মামলায় আসামি করা হলো। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখে বাদির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতের প্রতি আহবান জানিয়েছেন শিশুটির আইনজীবী মোঃ শামীম হোসেন।

আর অন্যান্য আইনজীবীরা বলছেন, ফৌজদারি মামলায় অভিযোগকারী পক্ষ অনেক সময় বিরোধের জেরে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে আসামি করে থাকে। তবে কোনো শিশুর নাম যুক্ত হলে তদন্তে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/166658