বগুড়ার প্রভূত উন্নয়নের কারিগর জনাব তারেক রহমান
বাংলাদেশের অত্যন্ত প্রাচীন সভ্যতার লীলাভূমি বগুড়া । প্রাগৈতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বগুড়ার উন্নয়নে এ পর্যন্ত যাঁরা অবদান রেখে চলেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তারই সুযোগ্য সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের আস্থার প্রতীক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। বিগত দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যে বগুড়া অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত ছিল, যেখানে শুধুমাত্র বগুড়া নামে ইউ অক্ষরটি সংযুক্ত ছাড়া আর কোন কিছুই হয় নাই। সেই বগুড়াবাসী আজ স্বপ্ন না বাস্তবতার নিরিখে সিটি কর্পোরেশন, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম (শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়াম), বগুড়া বিমানবন্দর, বগুড়া সিরাজগঞ্জ রেল লাইনসহ প্রভূত উন্নয়নের পথে। বিগত দেড় যুগের প্রাপ্তি একটি ইউ আজকে রূপান্তরিত হয়েছে আনলিমিটেড ডেভেলপমেন্টে। তাইতো এখন বগুড়ার চিরাইতো পরিচিত বাণী “হামরা বগুড়ার ছোল, পুটি মাছ ধরবার যায়া ধরে আনি বোল”। এই প্রবচনটির আভিধানিক অর্থ অন্যান্য স্থানের মানুষ যখন পুটি মাছ নিয়ে চিন্তা করে তখন বগুড়ার মানুষ বোয়াল মাছ ধরে নিয়ে আসে। আমরা আজকে সবচেয়ে গর্বিত যে সারা বাংলাদেশের বর্ণিল ভবিষ্যৎ রূপকার জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বগুড়ায় এসেছেন একেবারেই সাধারণ বেশে। এসেই মানুষের হৃদয়কে জয় করেছেন এবং উন্নয়নের ধারাবাহিক প্রস্তর ফলক উন্মোচন করেছেন। বঞ্চিত বগুড়া আশায় বুক বেঁধেছে এবার আমাদের ইউ টা পরিণত হয়েছে আনলিমিটেড ডেভেলপমেন্টে। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার এবং বিশ্বে অনেকগুলো পণ্যের জি আই এর আধার বগুড়া উজ্জীবিত হয়েছে উন্নয়নের কাক্সিক্ষত পথে। বগুড়া শিক্ষা নগরী শিল্প নগরী ও বাংলাদেশের উন্নয়নের রাজনৈতিক সূতিকাগারের পবিত্র পূন্য ভুমিতে পরিণত হয়েছে। এমন বাস্তবতার যিনি রূপকার ও স্বপ্নদ্রষ্টা তিনি আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। রাষ্ট্রের কাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক উন্নয়নের বিষয়টি যার চিন্তার মূল পরিচায়ক। তাইতো তিনি আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। যেখানে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি টেকনিক্যাল শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রি প্রদান করা হবে। যে বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে খুব বিন্যস্ত ও সুসংহত কৃষি চিকিৎসা ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ। এই জনপদের মানুষ সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় উন্নত হয়ে দেশ গঠনের প্রভূত দায়িত্ব পালন করতে পারবে। দেশ বিদেশে প্রতিষ্ঠা করবে বাংলাদেশের সুনাম ও সুখ্যাতি। বিশ্বের দরবারে উঁচু হবে বাংলাদেশ নাম ও মান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিন বলেছিলেন “আই হ্যাভ এ প্লান” যে পরিকল্পনা কোন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হয়। যে পরিকল্পনা কোন দেশের মানুষকে যোগ্য মানুষ হিসেবে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করার অভিপ্রায় হয় সেই পরিকল্পনায় হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট পরিকল্পনা। প্রাথমিক পর্যায়ে হয়তো আমরা এটা বুঝতে পারি নাই কি ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে বাংলার রাখাল রাজা জনাব তারেক রহমান এগিয়ে যাবেন কিন্তু কালের পরিক্রমায় আমরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে তার পরিকল্পনার সুফল পেতে শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, গাছ লাগানোর বনায়ন সবুজায়ন ও কর্মসূচি, খাল খনন কর্মসূচিসহ সকল প্রকার মৌলিক চাহিদার প্রকৃত সুবিধা কাঙ্খিত জনগণের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ আজ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শুরু করেছে। মার্টিন লুথার কিং এর যে চিন্তা ধারায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছিলেন আজ তারই প্রতিফলন ঘটেছে চারিদিকে। বগুড়ার উন্নয়ন তারই একটি সমন্বিত অংশ। সারাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বগুড়াবাসী সম্পৃক্ত হতে পেরে সত্যিই কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত। বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের পুরনো ঐতিহ্য আজকে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে চলেছে। সেই দিনের অবসান হতে চলেছে যখন বগুড়াবাসি হিসেবে পরিচয় দিয়ে নিজেকে হীনমন্যতায় গুটিয়ে নিতে হতো। গুনি মানুষের মুখে শুনেছি মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে বয়সের মধ্যে নয়”। যার প্রতিফলন যিনি দিয়েছেন কর্মস্পেহা ও মানবতার সেবার অনন্য সূযোগ সেই মহান রাব্বুল আলামিনের শুকরিয়া আদায় করে বলছি বগুড়াবাসীর জন্য একই ভিটা থেকে যে তিন তিনজন মহামানবকে সারা বাংলাদেশকে সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন এবং যারা নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে দেশ তথা দেশের সর্বস্তরের মানুষের সেবা দিয়ে গিয়েছেন এবং যাচ্ছেন তাদের মধ্যে তারেক রহমান পূর্বতন দুই মহৎমানবের সুযোগ্য সন্তান। সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় প্রথম থেকে তিনি অনন্য নিদর্শন স্থাপন করে চলেছেন। বগুড়ায় জন্ম নেওয়া একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি এই ভেবে যে বগুড়ার পুরাতন ঐতিহ্য শিক্ষা সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা সত্যিই গর্ব করার। ঐতিহ্যবাহী মহাস্থানগড় (প্রাচীন পুন্ড্রনগর) বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, যা বগুড়া শহর থেকে ১৩ কি. মি উত্তরে করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত । খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতক থেকে ১৫শ শতক পর্যন্ত এটি পুন্ড্রবর্ধন রাজ্যের রাজধানী ও নগরকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল । মৌর্য, গুপ্ত ও পাল শাসনামলে এটি প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে সমৃদ্ধি লাভ করে। যার পরিচ্ছন্ন অর্থ দাঁড়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এবং সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ নগরী হল বগুড়া। বর্তমানে যার প্রত্নতাত্ত্বিক এবং পৌরাণিক ও পর্যটনভিত্তিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। প্রশাসনিক কাঠামোর ধারাবাহিকতায় অত্র জনপদ নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের দাবী রাখে। বগুড়ার শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামটি ১৯৬২ সালে নির্মিত হয় এবং ১৯৭০ সালে এটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। ১৯৭৩ সালে মুক্তিযোদ্ধা মাছুদুল আলম খান চাঁন্দুর নামে এর নামকরণ করা হয়। এটি একটি ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ২০০৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দিয়ে ভেন্যুটি পরিচিতি পায় এবং ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচের মর্যাদা লাভ করে। ১৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই এত চমৎকার এবং বৃহৎ পরিসরের স্টেডিয়ামটি শুধুমাত্র বগুড়ায় হওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে বঞ্চিত ছিল। ২০২৫ সাল থেকে কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ শুরু হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সুদক্ষ পরিচালনা ও দিকনির্দেশনায় স্টেডিয়ামটি আবার হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত ও আন্তর্জাতিকভাবে উল্লেখযোগ্য।
বর্তমান আধুনিক বগুড়া বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের একটি প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র, যা দেশের শীর্ষ ১০ শহুরে অর্থনীতির মধ্যে স্থান পেয়েছে। এখানে শিল্প খাতে ৪০০০ এর বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানা রয়েছে, যেগুলো খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্লাস্টিক, বেকারি, বস্ত্র, মৎস্য সরঞ্জাম ও লোহাশিল্পের মতো কাজে নিয়োজিত এবং ভারত, নেপাল ও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের পণ্য রপ্তানি করে। বগুড়াবাসীর প্রাণের দাবি ছিল বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনের রূপান্তরিত করা। সেই দাবির বাস্তব প্রতিফলন ঘটান বাংলাদেশের লুথার কিং নামে খ্যাত আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দেশের ১৩তম সিটি কর্পোরেশন হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে। অথচ এই ঘোষণা অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিল। কারণ বগুড়ার প্রশাসনিক ইতিহাস শুরু হয় ১৮৭৬ সালে বগুড়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আর ১৯৮১ সালে এটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত পৌরসভায় উন্নীত হয়। বগুড়া করতোয়া নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে বিস্তৃত এবং ঢাকা থেকে প্রায় ২০০ কি.মি. উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত উত্তরবঙ্গের একটি প্রধান বাণিজ্যিক শহর ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। ৬৯.৫৬ বর্গ কি.মি. আয়তনের এই শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৪,৮৬,০১৬ (২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী)। তাই বগুড়ার উন্নয়ন অর্থই হচ্ছে উত্তরবঙ্গসহ সারা দেশের উন্নয়ন। একই ধারাবাহিকতায় বগুড়া–সিরাজগঞ্জ রেলপথ হলো ৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি প্রস্তাবিত ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ, বগুড়ায় বহু প্রতিক্ষিত ও প্রত্যাশিত বিমানবন্দর চালু অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্থাপনা ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক ব্যবস্থাপনা সম্পন্নের জন্য সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এমনইভাবে বহুদিনের প্রত্যাখ্যাত ও বঞ্চিত মানুষের আশা পূরণের হাজারো রকমের বাস্তবতা নির্মাণ করে চলেছেন আমাদের প্রাণের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। এই বহমান উন্নয়ন অব্যাহত থাকুক। সুস্থ সাবলীল স্বপ্নদ্রষ্টা হয়ে প্রতিটি স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে চলুন আমাদের পরমাত্মীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দোয়া করি ।
লেখক :
অধ্যাপক ড. মো: গোলাম ছারোয়ার
শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/166567