বগুড়ার শেরপুরে শিক্ষক দম্পতিকে অজ্ঞান করে চুরি, তিন শিশুকে জিম্মি
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে ঘরে ঢুকে জানালা দিয়ে চেতনানাশক স্প্রে (মেডিসিন) করে এক শিক্ষক দম্পতিকে অচেতন করে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পৌর শহরের বাগানবাড়ি এলাকায় এ চুরির ঘটনা ঘটে। চোরচক্র দম্পতির তিন শিশু সন্তানকে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে অন্য একটি রুমে আটকে রাখে। আক্রান্তরা হলেন বাগানবাড়ি এলাকার নুর হোসেনের ছেলে খানপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক লিটন শেখ (৪০) ও তার স্ত্রী রেফা খাতুন (৩৫)। বর্তমানে তারা শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে শিক্ষক দম্পতি সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা খোলা জানালা দিয়ে চেতনানাশক মেডিসিন স্প্রে করে তাদের অচেতন করে ফেলে। পরে চোরচক্র জানালার গ্রিল ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে। এই সময় দম্পতির ৮ বছর বয়সী বড় মেয়ে লামিয়া বিষয়টি টের পেলে চোরচক্রের সদস্যরা তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ছোট দুই বোনসহ তাকে একটি ঘরে আটকে রাখে।
প্রাণভয়ে শিশুরা চুপ থাকলে দুর্বৃত্তরা নির্বিঘ্নে মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা বেজে গেলেও লিটন শেখ ও তার স্ত্রী ঘুম থেকে না ওঠায় এবং তিন শিশুর কান্নার আওয়াজ পেয়ে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। ঘরে ঢুকে তারা দম্পতিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং জানালার গ্রিল ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষক দম্পতি এখনো পুরোপুরি জ্ঞান না ফেরায় কী পরিমাণ নগদ টাকা বা সোনা গহনা খোয়া গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশু লামিয়া বলেন, আমি অন্য রুমে ছিলাম। হঠাৎ একজন লোক এসে আমাদের ঘরে ঢুকে বলে যে কান্না করলে আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে।
এরপর আমাদের তিন বোনকে এক রুমে আটকে রাখে। অনেকক্ষণ পর সকাল হলে আমি বাবা-মাকে ডাকি কিন্তু তারা কোনো কথা বলেনি। পরে আমরা কান্নাকাটি করলে পাশের বাসার লোকজন আসে। ঘটনার খবর পেয়ে শেরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, চেতনানাশক ব্যবহার করে এই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে, অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/166394