নাটোরের লালপুর খরায় ঝরে পড়ছে আমের গুটি : ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুরে তীব্র খরা ও হপার পোকার আক্রমণে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। পানি সেচ, কীটনাশক স্প্রে কোন কিছু করেই আমের গুটি ঝরা ঠেকানো যাচ্ছে না। ফলে আমের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কায় পড়েছেন আম চাষিরা।
কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, উপজেলায় আমের বাগান আছে ১ হাজার ৮০৫ হেক্টর। এসকল বাগান থেকে হেক্টর প্রতি ১২.৭ মেট্রিক টন হারে ২২ হাজার ৯২৩ মেট্রিক টন আমের উৎপদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। নাটোরের লালপুরের ওয়ালিয়া গ্রামের আম চাষি আব্দুল ওয়াহাব বলেন, তার সাড়ে ৫ বিঘা জুড়ে হিমসাগর (খিরসাপাতি) ও আম্রপালী জাতের আম বাগান আছে।
বাগানে প্রচুর মুকুল ও গুটি এসেছিলো। তবে মৌসুমের শুরু থেকে অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরায় ঝরে যাচ্ছে আমের গুটি। এদিকে তেলের সংকট ও লোডশেডিংয়ে সেচ দেওয়াও মুুশকিল হয়ে পড়েছে। আম চাষি মাহবুর রহমান বলেন, তার তিন বিঘা জমিতে আম্রপালী জাতের আম বাগান আছে। মৌসুমের শুরু থেকে বাগানের পরিচর্যা করেছেন। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় বেড়েছে হপার পোকার আক্রমণ। দুইবার পানি সেচ ও কীটনাশক স্প্রে করেও আমের গুটি ঝরা ঠেকানো যাচ্ছে না।
মৌসুমী আম ব্যবসায়ী শুভ আলী বলেন, গত বছর এনজিও থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ১০ বিঘা আমের বাগান কিনে দাম না পেয়ে লোকসান হয়েছে। লাভের আশায় এবারও ৫ বিঘা আমের বাগান কিনেছিলাম। খরায় বাগানের অর্ধেক আমের গুটি ঝরে পড়ে গেছে। এবারও আমের ফলন কম হবে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক বলেন, ঈশ্বরদী ও তার আশেপাশে মার্চ ও এপ্রিলের ২৩ তারিখ পর্যন্ত ৭৩ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরমধ্যে মার্চ মাসে ৭দিনে বৃষ্টি হয়েছে ৫৬ দশমিক ১ মিলিমিটার। এপ্রিলে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩দিনে ১৭ মিলিমিটার।
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, এবার উপজেলায় ৮০ শতাংশ গাছে আমের মুকুল এসেছিলো। গুটিও ভালো এসেছে। মৌসুমের শুরু থেকে অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরায় আমের গুটি ঝরে পড়ছে। আমের গুটি ঝরা রোধে কৃষকদের পানি সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একইসাথে হপার পোকা দমনে কৃষকদের উঠান বৈঠকের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করছি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/166379