জ্বালানির ভোগান্তিতে রংপুরে সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ ব্যবস্থার দাবি জোড়ালো হচ্ছে
রংপুর জেলা প্রতিনিধি: রংপুর অঞ্চলে চলছে সেচ নির্ভর বোরো মৌসুমের চাষাবাদ। গত পাঁচ বছর আগে সৌর বিদ্যুতের (সোলার) মাধ্যমে সেচ যন্ত্র পরিচালনা শুরু হলে ব্যাপক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়। বর্তমানে এ প্রকল্প চালু না থাকায় ব্যাপকভাবে কৃষকরা লাভবান হতে পারছেন না। এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ সেচযন্ত্র বিদ্যুৎ ও ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল প্রাপ্তিতে কৃষকরা ভোগান্তির শিকার হওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ধান উৎপাদনে বলে জানিয়েছে কৃষি কাজের সাথে সংশ্লিষ্টরা।
এমন বাস্তবতায় সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ ব্যবস্থার দাবি জোড়ালো হচ্ছে। পাশাপাশি নেট মিটারিং চালু করার মাধ্যমে কৃষক এবং সরকার উভয়ে লাভবান হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গত বোরো মৌসুমে (২০২৪-২৫) রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিএডিসি এবং বিএমডিএ এর যৌথ জরিপ অনুযায়ী সেচ যন্ত্র ছিলো সর্বমোট ৩৩ লাখ ৬ হাজার ১৫৮টি।
যার মাধ্যমে ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫১.৯৮ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হয়। এর মধ্যে ৯০১৮টি গভীর নলকূপ (বিদ্যুৎ চালিত ৮৩৫৭ ও সোলার ৬৬১টি), এলএলপি ২২৯৮টি (বিদ্যুৎ চালিত ১০৬৪, ডিজেল ৮০৪টি এবং সোলার চালিত ৪৩০টি) এবং এসটিডব্লিউ ৩২৪৭৩৮টি (বিদ্যুৎ চালিত ১২১৭৭৪, ডিজেল ২০২৯০৩টি এবং সোলার চালিত ৬১টি) ডাগওয়েল ১০৪টি। এর মধ্যে সোলার চালিত গভীর নলকূপ এলএলপি, এসটিডব্লিউ এবং ডাগওয়েল ছিলো ৫৯৬টি।
রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়নের মৌয়াগাছ গ্রামের বিএডিসি সোলার স্কীম ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে সোলার চালিত গভীর নলকূপ দিয়ে প্রায় ৮৩ বিঘা (৬০ শতকে ১বিঘা) জমিতে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বোরো মৌসুমে প্রতি বিঘার জন্য অন্য উৎস থেকে সেচ নিলে কৃষকদের দিতে হচ্ছে প্রায় ৬ হাজার টাকা।
সেখানে তাকে দিতে হচ্ছে অর্ধেক টাকা। শুধু তাই নয় বর্তমানে ডিজেল পেতে ভোগান্তি সৃষ্টি হওয়ায় অনেকে বিড়ম্বনার শিকার হলেও তার অন্তর্গত কৃষকদের কোন রকম সমস্যা হচ্ছে না। বিএডিসি রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (নির্মাণ) প্রকৌশলী হুসাইন মোহাম্মদ আলতাফ বলেন, সোলার চালিত সেচ যন্ত্রগুলো কৃষকদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। সোলার চালিত সেচ যন্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ডিজেলের চাপ কমানো সহজ।
বিতরণ অঞ্চল নেসকো রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে সোলার সেচ যন্ত্রগুলো পল্লী বিদ্যুতের এলাকায় অবস্থিত। তাই এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন। তবে তার কাছে কেউ এই বিষয়ে কোনো সহযোগিতা চাইলে তিনি সর্বাত্মক সহযোগী করতে প্রস্তুত আছেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/166366