সংসদে শিষ্টাচার মানতে এমপিদের কড়া নির্দেশ স্পিকারের

সংসদে শিষ্টাচার মানতে এমপিদের কড়া নির্দেশ স্পিকারের

জাতীয় সংসদে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলা, খাওয়া-দাওয়া করা এবং দর্শক গ্যালারির কারও সঙ্গে কুশল বিনিময় করা থেকে সংসদ সদস্যদের (এমপি) বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। একইসঙ্গে সংসদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার সংসদ সদস্যদের শিষ্টাচার বিষয়ে সতর্ক করে এসব কথা বলেন।

অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এই সংসদ জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

একটি জাতীয় সংসদ এগিয়ে যায় আইন-কানুন, প্রচলিত বিধিবিধান এবং রেওয়াজের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় আমি দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি।
ভেবেছিলাম এগুলো কমে যাবে, তাই অত্যন্ত বিনীতভাবে দুয়েকটি বিষয় আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে চাই।

 

স্পিকার বলেন, সংসদ গ্যালারিতে পরিচিত কেউ থাকলে তাকে উদ্দেশ্য করে কোনো বক্তব্য রাখা যায় না।

এটি সংসদের রেওয়াজ। কিন্তু আজকে দেখলাম, দুজন সদস্য দর্শক গ্যালারিতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করছেন। এটি একেবারেই অনভিপ্রেত।

 

স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান জানানোর রীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অনেক সদস্য সংসদে প্রবেশের বা বের হওয়ার সময় চেয়ারের প্রতি কোনও সম্মান প্রদর্শন করেন না। বিশ্বব্যাপী সংসদের প্রচলিত নিয়ম হল, ঢোকার সময় মাথা নত করে কিংবা সালাম দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে নিজ আসনে যেতে হয়, বের হওয়ার সময়ও একইভাবে সম্মান দেখাতে হয়।

অধিবেশন চলাকালে হাঁটাচলা ও মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে স্পিকার বলেন, স্পিকার এবং যিনি বক্তব্য রাখছেন, তাদের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে ক্রস করা সঠিক নয়, কিন্তু এটি হামেশাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া অনেক সদস্য সংসদে টেলিফোনে কথা বলেন। কেউ কেউ মুখ ঢেকে কথা বলেন। সংসদে টেলিফোনে আলাপের কোনও রেওয়াজ নেই। মোবাইল ফোন মিউট করে রাখবেন। একান্তই কথা বলার প্রয়োজন হলে লবিতে গিয়ে বলবেন।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে একজনকে পানাহাররত অবস্থায় দেখেছি। সংসদে খাওয়া-দাওয়া বা পানাহারের কোনও বিধান নেই। অতীতে যে কয়েকটি সংসদ দেখেছি, সেখানে এমন ছিল না। এসব কথা বলতে আমার খারাপ লাগছে, কিন্তু সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়— এমন কিছু করা আমাদের অনুচিত।

‘পয়েন্ট অব অর্ডারে’ কথা বলার নিয়ম প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার প্রকৃষ্ট সময় হল প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে। খুব জরুরি হলে তখন দাঁড়িয়ে কোন বিধিতে কথা বলছেন, সেটি উল্লেখ করে বলতে হবে। অতীতের সংসদগুলো এভাবেই চলেছে।

নতুন সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্পিকার বলেন, যারা নতুন সংসদে এসেছেন, তারা ‘রুলস অব প্রসিডিউর’ (কার্যপ্রণালী বিধি) বইটি ভালোভাবে পড়ে নেবেন। তাহলে আপনাদের জন্য কাজ করা সহজ হবে এবং আমাদেরও কোনও অপ্রীতিকর কথা বলতে হবে না।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/166261