নাটোরের লালপুরের ১৬ ঘন্টা থাকছে না বিদ্যুৎ, তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ে

নাটোরের লালপুরের ১৬ ঘন্টা থাকছে না বিদ্যুৎ, তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ে

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুরের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৈশাখের তীব্র গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। দিনে-রাতে সমানতালে চলা বিদ্যুৎবিভ্রাটে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৬ ঘন্টায় থাকছে না বিদ্যুৎ। এতে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাসহ সকল ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। 

বৃহস্পতিবার চাহিদা ছিলো ১৯ মেগাওয়াট এর বিপরীতে মিলেছে ৯ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হয়েছে ১০ মেগাওয়াট। এর আগে গত বুধবার চাহিদা ছিলো ২৫ মেগাওয়াট সেখানে পাওয়া গেছে ১১ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হয়েছে ১৪ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় কম পাওয়ায় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। তবে কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে তা বলতে পারছেন না তারা। 

লালপুরের এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রান্তিক ইসলাম বলেন, একদিকে গরম তার উপরে বিদ্যুৎ থাকে না ফলে ঠিক মতো পড়াশোনা করতে পারছিনা। দিন রাত মিলে ১৫-১৬ ঘন্টায় বিদ্যুই থাকে না। গত ২১ তারিখে পরীক্ষা চলাকালীনও এক ঘন্টা লোডশেডিং হয়েছে। তীব্র গরমে পরীক্ষার হলে বসে থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছিলো। 

ওয়ালিয়া গ্রামের গৃহিনী আঁখি খাতুন বলেন, সারাদিনে কতবার বিদ্যুৎ যায়, তার হিসাব নেই। একবার বিদ্যুৎ গেলে দেড় থেকে ২ ঘন্টা পরে আসে। তীব্র গরম আর লোডশেডিংয়ে বাচ্চাদের পড়াশোনাও হচ্ছে না। সংসারের কাজও ঠিক মতো করা যাচ্ছে না। লালপুরের আটোচালক ইনছার আলী বলেন, অটো চালিয়েই সংসার চলে। গত রাতে ৫-৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ ছিলো না ব্যাটারি ঠিক মতো চার্জ হচ্ছে না। চার্জ না থাকায় ঠিকমত ভাড়াও মারতে পারছি না। এতে সংসার চালানোই মুশকিল হয়ে গেছে।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পর্যাবেক্ষক নাজমুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বুধবার ছিলো ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঈশ্বরদী ও তার আশেপপাশের অঞ্চলের ওপর দিয়ে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাতাসে আর্দতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। 

নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর লালপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রেজাউল করিম খান বলেন, মোট চাহিদার অর্ধেকও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আটটি ফিডারে পর্যায়ক্রমে দেড় ঘন্টা লোডশেডিংয়ের পর এক ঘন্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কখনো তাও করা যাচ্ছে না। 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/166250