বাংলাদেশের কোচ হতে তিন শতাধিক আবেদন
স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন থেকে কোচ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ইউরোপ-লাতিন থেকে শুরু করে হাইপ্রোফাইল কোচদের বায়োডাটা অনলাইনে প্রতিনিয়ত জমা হচ্ছে বাফুফেতে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে জাতীয় ফুটবল দল, বয়সভিত্তিক দল এবং গোলরক্ষক কোচের আবেদন জমা পড়েছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। হামজা চৌধুরী-শমিত সোমদের কোচ হতে তিনশর বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে গতকাল সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাফুফে টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন। জাতীয় দলের মতো বয়সভিত্তিক দলের কোচ হতে ১০০ জনের মতো জীবনবৃত্তান্ত এখন বাফুফেতে। গোলরক্ষক কোচ হওয়ার জন্য প্রায় ৫০ জন আবেদন করেছেন।
ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা কিংবা এশিয়া থেকে ঠিক কতজন করে কোচ জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ খেলা কোনো ফুটবলার আছেন কিনা এই তালিকায়, সেটাও যাচাই-বাছাই করার আগ পর্যন্ত বলা সম্ভব নয় বলে সাংবাদিককে জানান হিলটন, ‘তিনশর ওপরে প্রোফাইল এসেছে। এখনও কারওটা আমরা দেখিনি। আমরা শুনছি বিভিন্ন ব্যক্তির নাম। যখন আমাদের কাছে এগুলো সাবমিট করা হবে, তখনই দেখতে পারব। দু-এক দিনের মধ্যে আমরা একটি শর্টলিস্ট করে ফেলব।’
দীর্ঘ তালিকা থেকে ছোট করার জন্য আলাদা একটা কমিটি গঠন করেছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। জাতীয় দলের প্রধান কোচ নিয়োগের বিষয়টি দেখভাল করবেন তিনি। এর আগে অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন মিলে তালিকা ছোট করবেন। কোচদের আবেদনের তালিকা দীর্ঘ। তবে এর মধ্যে আছে বেশ কয়েকজন নামকরা কোচ। যার মধ্যে অন্যতম জার্মানির বেনার্ড স্টর্ক। তাঁর খেলোয়াড়ি জীবন ছিল প্রসিদ্ধ। জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের জার্সিতে ১৪৬ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২০০৬-০৭ মৌসুমে ক্লাবটির সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে কোচিং ক্যারিয়ারে সেরা সময়টা তিনি পার করেছেন হাঙ্গেরিতে। ২০১৬ সালে তাঁর অধীনে ৪৪ বছর পর ইউরোতে কোয়ালিফাই করে হাঙ্গেরি। অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে তাঁর কোচিংয়েই প্রতিযোগিতার শেষ ষোলোতে খেলেছিল হাঙ্গেরি যুব দল। ফ্রান্সের দিদিয়ের ওলে নিকোল আছেন কোচ হওয়ার আবেদনের তালিকায়। ২০১৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপকে শিরোপা জেতানো ক্রোয়েশিয়ান পিটার সেগার্টও হামজা-শমিতদের কোচ হতে আবেদন করেছেন। আবেদন করেছেন দক্ষিণ সুদান ও কোমোরোস জাতীয় দলের সাবেক হেড কোচ স্টেফানো কুসিন।
৫৮ বছর বয়সী মন্টেনেগ্রোর মিওড্রাগ রাধুলোভিচের সিভি এখন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে। খেলোয়াড়ি জীবনে অতটা সুনাম অর্জন করতে না পারলেও তাঁর কোচিং ক্যারিয়ার বেশ প্রসিদ্ধ। রাশিয়ান ক্লাব দিনামো মস্কোর সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করা রাধুলোভিচ দুই মেয়াদে লেবানন জাতীয় দলের হেড কোচ ছিলেন। ২০২০ সালে মন্টেনেগ্রো জাতীয় দলের কোচের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব বার্মিংহাম সিটিতে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জার্মানির অ্যান্তোনে হায়ও আগ্রহ দেখিয়েছেন বাংলাদেশের কোচ হতে। গাম্বিয়া, লাইবেরিয়া, কেনিয়া, মিয়ানমারের মতো জাতীয় দলকে কোচিং করানো অ্যান্তোনের মতো আরেক হাইপ্রোফাইল কোচ ক্রোয়েশিয়ার ইগর স্টিমাচ সিভি পাঠিয়েছেন বাফুফেতে। ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের জার্সিতে ৫৩ ম্যাচ খেলা স্টিমাচের হাত ধরে ভারত জিতেছিল সাফের শিরোপা। আছে ক্রোয়েশিয়ার মতো দলকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা। উঁচু মানের কোচদের সঙ্গে পুনরায় বাংলাদেশের প্রধান কোচের চেয়ারে বসার আগ্রহ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার। তবে এ স্প্যানিয়ার্ডের বাংলাদেশের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। যেভাবে হাইপ্রোফাইল কোচদের তালিকা জমা পড়েছে বাফুফেতে, উঁচু মানের কোচ নিয়োগের জন্য বাজেটও বাড়বে। আপাতত বাজেটের চিন্তা করছেন না বাফুফের কর্তারা।
সংক্ষিপ্ত তালিকা করার পর কাকে নিয়োগ দিলে কেমন খরচ হবে, তখনই বাজেট নিয়ে চিন্তা করা হবে বলে জানান হিলটন। একই সঙ্গে হামজা-শমিতদের আগমনেই কোচ নিয়োগের আবেদনে এত সাড়া পড়েছে বলে মনে করেন বাফুফে টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান, ‘আমার কাছে যেটা মনে হয় হামজা চৌধুরী-শমিত সোম আসার কারণে বাংলাদেশের ফুটবলের একটা হাইপ আসছে। কোচদের আবেদনে সেই হাইপই বড় কারণ। পাশাপাশি বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় একটি দল হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে আবেদন করেছেন কোচরা। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ হয়তো আরও ভালো করবে, সেই কারণে তাদের এই আগ্রহটা বেশি।’
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/166030