নেত্রকোনায় কৃষক হত্যার পলাতক আসামি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেফতার
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক কৃষককে হত্যার ঘটনায় পলাতক আসামি শহীদুল ইসলামকে (৪০) ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের সদর কোম্পানি ও র্যাব-৯ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের সদর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার শহীদুল ইসলাম নেত্রকোনার মদন উপজেলার মাঘনা পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
আর হত্যার শিকার কৃষক বাচ্চু মিয়া (৬৪) একই গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সময় কৃষক বাচ্চু মিয়ার জমিতে গরু ছেড়ে দিতেন কুল ইসলামসহ মাখনা গ্রামের অনেকে। বার বার নিষেধ করার পরও তারা এ কাজ করতেন। বাচ্চু মিয়া মাখনা গ্রামের জমি বন্ধকি নিয়ে আবাদ করায় ওই গ্রামের মানুষ নানাভাবে অত্যাচার করে আসছিলেন। গত ২৬ মার্চ বিকেলে গ্রামের হাওরে বাচ্চু মিয়ার খেতের ধান গরু দিয়ে খাওয়াচ্চিলেন শহীদুল ও কুল ইসলামসহ অন্যরা। এতে বাধা দিলে বাচ্চু দিলে কাঠের মুগুর দিয়ে আঘাত করে বাচ্চু মিয়াকে ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় ২৮ মার্চ নিহতের ছেলে মো. আলামিন তালুকদার বাদী হয়ে মদন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে শহীদুল ও কুল ইসলামসহ ছয় জনকে আসামি করা হয়। তবে ঘটনার পর আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে মামলা দায়েরের পর ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ এর সদর কোম্পানি ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর এলাকায় পলাতক শহীদুল ইসলামের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের সদর কোম্পানি ও র্যাব-৯ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের সদর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন জানান, গ্রেফতার শহীদুল ইসলামকে মদন থানা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজ বিকেল চারটার দিকে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম গ্রেফতার শহীদুল ইসলামকে নিয়ে আনতে গিয়েছে। এখনো এসে পৌঁছায়নি। ঘটনার পরপরই এ মামলার একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বাকি আসামিরা এখনো পলাতক রয়েছে।