বগুড়ার ধুনটে বাবা হত্যার ন্যায় বিচার চান ছেলে
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় নুরুল ইসলাম নামে এক কৃষককে কান কেটে ও চোখ উপড়ে হত্যার প্রায় পাঁচ মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এমন পরিস্থিতিতে মামলার বাদি ও নিহতের স্বজনেরা ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। এছাড়া মামলা তদন্তে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বাদির মনে অসন্তোষ রয়েছে। ফলে হত্যার ন্যায় বিচার দাবি করে মামলার তদন্তভার থানা পুলিশ থেকে পরিবর্তন করে পিবিআই’র কাছে দেওয়ার আবেদন করেছে মামলার বাদি।
গতকাল শনিবার দুপুরে এই হত্যা মামলার বাদি নিহত নুরুল ইসলামের ছেলে ইমদাদুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকান্ডের পাঁচমাসেও মামলা তদন্তে পুলিশের চরমঅনিহা রয়েছে। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি।
এছাড়া বাবার প্রধান ঘাতক রুবা খাতুনের কাছ থেকে হত্যাকান্ডের কোন রহস্য উন্মোচন করতে পারছে না। এতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে চরমহতাশায় পড়েছি। ফলে বাবা হত্যার ন্যায় বিচারের জন্য থানা পুলিশের কাছ থেকে তদন্তভার পিবিআই-এ দেওয়ার জন্য ১২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, পুলিশ মহাপরিদর্শক, ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিশ্চিতপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে তার ভাতিজা প্রতিবেশী নাজিম উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ ঘটনার জেরে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর নাজিম উদ্দিন তার চাচা নুরুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দেয়। এ অবস্থায় ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রতিবেশী রুবা খাতুন নামে এক গৃহবধূ পুলিশের ভয় দেখিয়ে কৌশলে নুরুল ইসলামকে বাড়ি থেকে বের করে নেয়।
এরপর থেকে কৃষক নুরুল ইসলামকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নুরুল ইসলামের ছেলে শিক্ষক ইমদাদুল হক মিলন ধুনট থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেন। এ অবস্থায় ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর সকাল ১০টায় বাড়ির অদূরে ধান ক্ষেতের মাঝে কানকাটা ও চোখ উপড়ানো নুরুল ইসলামের মৃতদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ইমদাদুল হক মিলন বাদি হয়ে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় কোন আসামির নাম উল্লেখ না থাকলেও আরজিতে নাজিম উদ্দিন ও রুবা খাতুনের নাম উল্লেখ রয়েছে। শেরপুর থানা এলাকায় মৃতদেহ পড়ে থাকায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের পর উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নাজিম উদ্দিন ও রুবা খাতুন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ত আছি বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ কারণে এ হত্যা মামলার বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/165737