ভারি শিল্পের ১৫ একর এবং দ্বিতীয় বিসিক নগরী হলে বগুড়া ফিরে পাবে শিল্প নগরীর তকমা

ভারি শিল্পের ১৫ একর এবং দ্বিতীয় বিসিক নগরী হলে বগুড়া ফিরে পাবে শিল্প নগরীর তকমা

স্টাফ রিপোর্টার : শিল্পের শহর বগুড়ায় এখন শিল্প স্থাপনে জমি পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ দ্বিতীয় বিসিক স্থাপন এবং ভারি শিল্পের জন্য কেনা ১৫ একর জমির সঠিক ব্যবহার করা হলে হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে বগুড়া। পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিসিক এবং ভারি শিল্পের জন্য কেনা ১৫ একর জমিতে শিল্প কারখানা স্থাপন করা হলে এ থেকে বছরে সরকারের রাজস্ব আদায় হবে প্রায় ১৫শ’ কোটি টাকা।

শহরতলীর ছয়পুকুরিয়ায় ভারি শিল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা ১৫ একর জমি গত ৪৫ বছর ধরে পড়ে আছে। এই স্থানে কোন কল-কারখানা গড়ে ওঠেনি। ফাঁকা ওই জায়গায় ‘কী করা হবে, কী করা যায়’ তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে আলোচনা হয়েছে-কিন্তু কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন সেই বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন (বিএসইসি) এখনও পর্যন্ত কোন কিছুই স্থির করতে পারেনি।

বিগত ১৭ বছর তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালীরা ওই জায়গায় মাছ চাষ করে লাখ লাখ টাকা আয় করলেও সরকারের কোন লাভ হয়নি। ফলে মূল্যবান ওই জায়গা অব্যবহৃতই রয়ে গেছে। গেল শতাব্দীর ষাটের দশকে বগুড়ায় কটন স্পিনিং মিল, বিড়ি কারখানা, সাবান ফ্যাক্টরি, ট্যোবাকো কোম্পানি, গ্লাস ও আয়রন ফ্যাক্টরি এবং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিসহ অর্ধশত কলকারখানা গড়ে ওঠেছিল। যে কারণে তখন সারাদেশে বগুড়া শিল্পনগরী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পায়।

এছাড়াও অনেক কুটির শিল্পেরও বিকাশ ঘটে। ফলে ১৯৬৪ সালে বগুড়া শহরের ফুলবাড়িতে প্রথমে ১৪ দশমিক ৫ একর জায়গা নিয়ে বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হয়। পরে আরও ১৮.৬৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। বর্তমানে বিসিকের ৯৪টি প্লাটের সবগুলোতে শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে।

এদিকে শিল্প কলকারখানার ব্যাপক চাহিদা এবং দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখে ১৯৮০ সালে বগুড়া-নওগঁ সড়কের পাশে ছয়পুকুরিয়া মৌজায় ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য ১৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৮১ সালের শুরুতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএসইসির ভারি শিল্প প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। তবে পরবর্তীতে তিনি শহীদ হওয়ার পর সেই প্রকল্প আর আলোর মুখ দেখেনি।

অন্যদিকে দ্বিতীয় দফা সম্প্রসারণের পরও বিসিক শিল্পনগরীর সবগুলো প্লট বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় উদ্যোক্তারা জায়গার অভাবে আবাসিক এলাকা এবং কৃষি জমিতে একের পর এক শিল্প কলকারখানা গড়তে শুরু করেন। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় উদ্যোক্তা বিশেষ করে ফাউন্ড্রি ও কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারীরা দ্বিতীয় বিসিক শিল্প নগরী স্থাপনের দাবি তোলেন।

তাদের দাবির প্রেক্ষিতে বিসিকের পক্ষ থেকে ভারি শিল্পের জন্য বিএসইসি’র অধিগ্রহণ করা ওই জায়গায় ‘দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী’ প্রতিষ্ঠার জন্য বিসিকের পক্ষ থেকে ১৯৯৮ সালে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। তারও প্রায় পাঁচ বছর পর ২০০৫ সালে বিসিকের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়।

ওই সময় বিসিকের পক্ষ থেকে তৈরি করা এক প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল বিএসইসির পড়ে থাকা ওই জায়গায় দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠা সম্ভব হলে সেখানে নতুন করে অন্তত ১০৪টি শিল্প ইউনিট গড়ে তোলা সম্ভব হবে। যাতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল যে-বিএসইসি এবং বিসিক একই মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরীর জন্য সহজেই জায়গাটি পাওয়া যাবে। কিন্তু বিএসইসি তাতে রাজি হয়নি।

ফলে দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরীর সম্ভাবনাও মুখ থুবড়ে পড়ে। এরপর ২০১৬ সালের শেষ দিকে বিএসইসি কর্তৃপক্ষ তাদের জায়গায় সীমানা প্রাচীর তোলা শুরু করে। তখন থেকেই শোনা যাচ্ছিল যে-সেখানে নতুন কিছু হতে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সেখানে এখন পর্যন্ত কিছুই হয়নি।

বিসিক বগুড়ার ডিজিএম মো. মাহফুজার রহমান জানান, বগুড়ার উদ্যেক্তাদের শিল্প স্থানে জমি দেওয়ার জন্য ২০১৯ সালে বিসিকের দ্বিতীয় নগরী গড়ে তোলার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। বগুড়া-নাটোর সড়কে ২৯২ একর জমি অধিগ্রহণ করে এই নগরী গড়ে তোলার জন্য বলা হয়েছে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সব সুবিধা রয়েছে এমন স্থানে বিসিক করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রি এ্যাকনেকের সভায় এটি অনুমোদন হয়েছে। এ্যাকনেকে পাশ হলে তা কার্যকর হবে এবং অর্থমন্ত্রণালয় অর্থ ছাড় করলে এবং বিসিকের দ্বিতীয় ইউনিট হলে তাকে প্রায় এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ৩৩.১৭ একর আয়তনের বিসিক থেকে সরকার প্রতিবছর ১৬৪ কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে। ২৯২ একর বিসিক এবং ভারি শিল্পের ১৫ একর জায়গা থেকে বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে। এটি হবে সরকার এবং জনগণ উভয়ের জন্য লাভজনক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার বিষয়টি ভালোভাবে আমলে নিবেন বলে তিনি আশা করেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/165729