পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ পাম্প মালিকের বিরুদ্ধে
কালাই ও ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা বাজারে মেসার্স ওমর ফিলিং স্টেশনে রহস্যজনকভাবে এক রাতেই ৫ হাজার লিটার ডিজেল বিক্রির নামে উধাও হওয়ার অভিযোগ ওঠেছে পাম্প মালিকের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় তেল সিন্ডিকেট সন্দেহে অস্বাভাবিক মনে করে উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল রাতারাতি বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়, বরং এর পেছনে পাম্প মালিক নিজেই এই অনিয়মে সাথে জড়িত থাকতে পারেন। তবে পাম্প মালিক বলছেন ভিন্ন কথা, অনিয়ম নয়, ৫ হাজার লিটার ডিজেল বিক্রি করা হয়েছে। যার প্রমাণ স্বরূপ ক্যাশম্যামো রয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ওমর ফিলিং স্টেশনে ৫ হাজার লিটার অকটেন এবং ৫ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হয়, যা নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে পরদিন শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু পাম্প মালিক ওমর আব্দুল আজিজ তালুকদার ওই রাতেই তার পাম্পে আসা পুরো ৫ হাজার লিটার ডিজেল অবৈধভাবে বিক্রি করেন। ওই পাম্প থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার আগে ঠুশিগাড়ী এম আর ফিলিং স্টেশনে পরদিন শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে এক হাজার ৯শ’ লিটার ডিজেল বিক্রি করেন।
এম আর ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী গোলাম মওলা জানান, দিনের বেলায় সকল যানবাহনসহ শ্যালো মেশিনেও ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে। তাতে এক হাজার ৯’শ লিটার ডিজেল বিক্রি হয়েছে। ১৭ এপ্রিল শুক্রবার সকালে পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৭টা থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ক্রেতারা অকটেন সংগ্রহ করছেন, অথচ একই সাথে পাম্পে আসা ৫ হাজার লিটার ডিজেল বিক্রির কোনো চিত্র চোখে পড়েনি।
এতে ডিজেল চালিত যানবাহনের চালক ও শ্যালো মেশিনের মালিকরা ডিজেল না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত অকটেন বিক্রি চললেও ডিজেলের কোনো হদিস মেলেনি। পরদিন ১৮ এপ্রিল সকালে ডিজেল নিতে আসা ভুক্তভোগীদের জানানো হয়, এক রাতেই পুরো ৫ হাজার লিটার ডিজেল বিক্রি হয়ে গেছে। এক রাতের মধ্যে এত পরিমাণ ডিজেল বিক্রি হওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে পাঁচার করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে।
তাদের বক্তব্য, সাধারণত রাতে পাম্পে এতো সংখ্যক ডিজেলচালিত যানবাহনের উপস্থিতি দেখা যায় না। ফলে এটি স্বাভাবিক বিক্রি নয় বলেই ধারণা করছেন অনেকেই। পাম্প মালিক আর ট্যাগ অফিসার মিলে যোগসাজস করে এসব তেল অন্যপথে বিক্রি করেছেন। ট্যাগ অফিসারের অনুমতি ছাড়া কোনোক্রমেই তেল বিক্রি করতে পারবে না পাম্প মালিক।
অভিযোগের বিষয়ে পাম্পের স্বত্বাধিকারী ওমর আব্দুল আজিজ তালুকদার বলেন, ডিজেল সংক্রান্ত কোনো সরকারি বিধিনিষেধ না থাকায় রাতের মধ্যেই সব ডিজেল বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি জানান, ৫ হাজার লিটার ডিজেল বিক্রির রশিদ ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ওই পাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার গ্রাম আদালতের কো-অর্ডিনেটর দুর্লভ জানান, শুক্রবার শুধু অকটেন বিক্রি করা হয়েছে, ডিজেল নয়। এক রাতেই ৫ হাজার লিটার ডিজেল বিক্রির বিষয়টি তার কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে। তিনিও বিক্রির হিসাব চেয়েছেন পাম্প মালিকের নিকট।
ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি ক্যাশমেমোসহ যাবতীয় নথি যাচাই করবেন। সঠিক হিসাব দিতে ব্যর্থ হলে অবশ্যই পাম্প মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ ডিজেল বিক্রি হওয়া স্বাভাবিক বিষয় নয়। এতে অনিয়মের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/165724