স্বামী কাজে, ট্যাঙ্কি খুলে পাম্পে এলেন স্ত্রী
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি : দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বাড়ছে যানবাহনের ভিড়। তবে সরকার বলছে দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। তেল দেওয়ার খবরে ভোর থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে পাম্পে ভিড় করেন লোকজন।
যানবাহনের এ দীর্ঘ সারি ছিল প্রায় আধাকিলোমিটার। গত বৃহস্পতিবার রংপুরের গঙ্গাচড়ার শিহাব ফিলিং স্টেশনটিতে আনা ২ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। ফলে লাইনে থাকা অনেকেই তেল না পেয়ে ফিরে যান। পেট্রোল নিতে মোটরসাইকেলের ট্যাঙ্কি নিয়ে পাম্পে আসেন এক নারী। মাঠ থেকে শ্যালোমেশিনের ট্যাঙ্কি খুলে নিয়ে আসেন কয়েকজন কৃষক।
শিহাব ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের ট্যাঙ্কি খুলে ব্যাগে করে নিয়ে আসা নাজমা আক্তার বলেন, মোটরসাইকেলে তেল না থাকায় আমার স্বামী কাজে গেছে পায়ে হেঁটে। বাধ্য হয়ে ট্যাঙ্কি নিয়ে পাম্পে এসেছি। কয়দিন যাবৎ মোটরসাইকেলে তেল না থাকায় আমার স্বামী কাজে যেতে পারে না। শ্যালোমেশিনের ট্যাঙ্কি নিয়ে আসা নয়ন মিয়া বলেন, ফসলের ক্ষেতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না তেলের অভাবে। পাম্প মালিকরা বোতলে তেল না দেওয়ায় কষ্ট হলেও সাথে নিয়ে এসেছি ট্যাঙ্কি।
শিহাব ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী সাহেদুজ্জামান সবুজ বলেন, গত বছর মার্চ মাসে ২৭ হাজার লিটার পেট্রোল পাওয়া গেলেও কোনো সংকট তৈরি হয়নি। চলতি বছরের মার্চে প্রায় ২৮ হাজার লিটার পেট্রোল পাওয়া গেলেও বর্তমানে তিন দিনের বরাদ্দ তিন ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। অবৈধ মজুদ ঠেকাতে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানাও করা হচ্ছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/165596