গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখার লড়াইয়ে উদ্যোক্তা গাইবান্ধার সাঘাটার মোশাররফ

গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখার লড়াইয়ে উদ্যোক্তা গাইবান্ধার সাঘাটার মোশাররফ

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈজসপত্র ও পাট, বাঁশ-বেতের হরেক রকমের শিল্পপণ্য আজও জীবন্ত রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এক সংগ্রামী উদ্যোক্তা মোশাররফ হোসেন। আধুনিকতার দাপটে যখন প্লাস্টিক ও স্টিলের পণ্যে ভরে যাচ্ছে বাজার, তখনও তিনি আঁকড়ে ধরে আছেন মাটির ঘ্রাণ আর গ্রামীণ সংস্কৃতির শিকড়।

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ডাকবাংলা এলাকার এ ব্যবসায়ী ঝাড়াবর্ষা গ্রামের মরহুম আব্দুল ওয়াহেদ আলীর ছেলে। জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার তাগিদে একসময় মোটরসাইকেল, সিএনজি, কার ও মাইক্রোবাস মেরামতের কাজ করতেন। কিন্তু ভাগ্য বদলের খোঁজে গ্যারেজের পাশেই ছোট্ট একটি দোকান ভাড়া নিয়ে শুরু করেন এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ- মাটির হাড়িপাতিল বিক্রি।

শুরুর সেই ছোট উদ্যোগই আজ পরিণত হয়েছে এক সমৃদ্ধ ব্যবসায়। মাটির হাঁড়ি-পাতিল, বাটনা, ঢাকনা, কাঁসা, পুতুলের পাশাপাশি পাটের তৈরি দোঁলনা, ব্যাগ, পাপশ এবং বাঁশ-বেতের তৈরি খাঁচা, টোপা, পলাই, চালুনি, ঝাঁটা এমন নানান উপকরণে এখন ভরপুর তার দোকান। প্রতিটি পণ্যে মিশে আছে গ্রামীণ ঐতিহ্য আর মানুষের আবেগ।

মোশাররফ হোসেন জানান, তিনি মাটির তৈরি তৈজসপত্র সিরাজগঞ্জের কামারপাড়া এলাকা থেকে সংগ্রহ করেন এবং বাঁশ-বেতের পণ্য আনেন পাশের ফুলছড়ি উপজেলা থেকে। সঠিক মান ও বৈচিত্র্যের কারণে তার দোকানে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়ছে দিন দিন।

তিনি বলেন, এই পণ্যগুলো শুধু ব্যবসা নয়, আমাদের ঐতিহ্য। পরিবেশবান্ধব এবং স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ হওয়ায় মানুষ আবার এগুলোর দিকে ঝুঁকছে। অনেকেই শখ করে কিনতে আসেন, আবার কেউ কেউ নিয়মিত ব্যবহার করেন।

স্থানীয় ক্রেতারাও বলছেন, প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় মাটির ও বাঁশ-বেতের পণ্যের চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জীবনের ছোঁয়া পেতে শহুরে মানুষও এখন এসব পণ্যের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে এই ব্যবসার পথ খুব একটা মসৃণ নয়। পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি, কাঁচামালের দাম বাড়া এবং আধুনিক পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতা সব মিলিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে মোশাররফকে। তবুও থেমে নেই তার স্বপ্ন।

সংগ্রাম আর পরিশ্রমকে পুঁজি করে মোশাররফ হোসেন আজ প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে গ্রামীণ ঐতিহ্যও হতে পারে লাভজনক ব্যবসার ভিত্তি। তার মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই হয়তো টিকে থাকবে বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতি, ফিরে পাবে নতুন প্রাণ।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/165487