ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে যৌতুকের বলি অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ হত্যা মামলা নিচ্ছে না পুলিশ
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : পীরগঞ্জে যৌতুকের টাকা না দিতে পাড়ায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার পীরগঞ্জে যৌতুকের টাকা না দিতে পাড়ায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৩ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার রাঘবপুর গ্রামে। মহেন্দ্র নাথের অভিযোগ ঘটনার ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নেয়নি থানা পুলিশ।
জানা যায়, গত বছরের আগস্ট মাসে পীরগঞ্জের রাঘবপুর গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক মিঠুন চন্দ্র রায়ের সাথে বিয়ে হয় একই উপজেলার জয়কুড় গ্রামের রাধা রাণীর। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের বাকি টাকার জন্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ঝড় নেমে আসে রাধার জীবনে। সুখের আশায় ঘর বেঁধে নির্যাতনই হয়ে ওঠে জীবনের সঙ্গী।
রাধার বড় ভাই সুভাষ চন্দ্র রায় ও ভাবি মানতা রাণী অভিযোগ করে বলেন, রাধার বিয়ের সময় আড়াই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকার জন্য রাধাকে প্রায়ই মারধর করতো তার স্বামী। টাকা না পেয়ে দিনের পর দিন না খাইয়ে রাখা হতো রাধাকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। গত ১৩ এপ্রিল সকালে রাঘবপুর গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় রাধার ঝুলন্ত নিথর দেহ। তার স্বামীর পরিবার থেকে জানানো হয়, গলায় ফাঁস দিয়ে রাধা মারা গেছেন।
রাধার বাবা মহেন্দ্র নাথ বলছিলেন, মৃত্যুর মাত্র দুইদিন আগে স্বামী মিঠুনকে নিয়ে রাধা এসেছিল যৌতুকের বাকি ৫০ হাজার টাকার জন্য। আমি জামাইকে বলেছিলাম একটু সময় দাও, দুই-তিন মাস পর ব্যবস্থা করে দিব। কিন্তু সে আমার কথা শুনলো না। টাকার জন্য মেয়েটাকে মেরে ফেললো। বসতভিটা বিক্রি করে বিয়ে দিয়েছি, এখন আমার জমিও নেই, মেয়েটাও রইল না।
রাধার বাবার পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাউকে না জানিয়েই লাশ সৎকার করে শ্বশুর বাড়ির লোকজন। লাশ সৎকারের সময় আমাদের জানানো পর্যন্ত হয়নি, আমরা শেষবারের মতো ওর মুখটাও দেখতে পারলাম না।
মেয়ে হারানোর শোক নিয়ে বাবা মহেন্দ্র নাথ গিয়েছিলেন পীরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে মামলা করতে। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। মেয়ের বিচার চেয়ে দিশেহারা এই বৃদ্ধ বাবা বলেন, মেয়ে হত্যার বিচার কার কাছে চাইব?
আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে রাধার বাবার বাড়ির প্রতিবেশীরা জানান, গর্ভবতী একটি মেয়েকে পিটিয়ে মেরে ফেলার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। তার মৃত্যুতে জয়পুর গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাধার স্বামী মিঠুন বলেন, আমাদের দুজনের মাঝে মধ্যে কথা কাটাকাটি হতো। কখনো বড় ধরণের কোনো সমস্যা হয়নি। কোন কারণ ছাড়াই আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি (তদন্ত) আব্দুল হাকিম বলেন, এ ঘটনায় ইউডি মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন ফোনে বলেন, এবিষয়ে আমাদের তদন্ত চলছে। যদি রাধার পরিবার মামলা দিতে চায়। পুলিশ অবশ্যই মামলা নিবে। মামলা নিতে কোনো বাধা নেই।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/165457