পরিকল্পিত উন্নয়নে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ চায় বগুড়াবাসী
রাহাত রিটু : বগুড়া শহরের পরিকল্পিত উন্নয়নে মাস্টার প্লানের জন্য বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চায় বগুড়াবাসী। বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ না হলে গঠন মূলক ও টেকসই উন্নয়ন হবে না বলে মনে করছেন বগুড়াবাসী। আগামী ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মত বগুড়ায় আসবেন। বগুড়াবাসীর জন্য তিনি উপহারস্বরুপ বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের ঘোষণার দিবেন। সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা জরুরী বলে মনে করছেন নগরবীদরা।
বগুড়া উন্নয়ন কতৃপক্ষ হলে পরিকল্পিত নগরায়ন, মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্লান) প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, ভূমি ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ, এবং ইমারত নির্মাণ অনুমোদন ও তদারকি করা, শহরের আবাসন সমস্যা দূর করতে প্রকল্প গ্রহণ, রাস্তাঘাট, পার্ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নগরবীদরা মনে করেন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলে শহরের ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা চিন্তা করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি সম্ভব। পরিকল্পিত উন্নয়নের অংশ হিসেবে আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক জোন, পার্ক ও খেলার মাঠের জন্য ভূমি সংরক্ষণ করা যাবে। বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হলে অপরিকল্পিত ইমারত নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন করা এবং ইমারত নির্মাণ আইন (বিল্ডিং কোর্ড) মানা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করবে প্রতিষ্ঠানটি। একই সাথে আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নের আওতায় আধুনিক ফ্ল্যাট, প্লট তৈরি এবং সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সেতু নির্মাণ করা যাবে।
এছাড়াও পরিবেশ সংরক্ষণে নগরে সবুজায়ন এবং জলাধার রক্ষায় ভূমিকা রাখা রাখতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি। উন্নয়ন কতৃপক্ষ জমির ভুল ব্যবহার রোধ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারবে। এই কর্তৃপক্ষ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে এবং তাদের আওতাধীন এলাকার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে।
শহর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (যেমন- রাজধানী উন্নয়ন কতৃপক্ষ) মূলত পরিকল্পিত নগরায়ণ, ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নগরবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করে। এদের মূল কাজের মধ্যে রয়েছে মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্লান) প্রণয়ন, ইমারত নির্মাণ অনুমোদন, আবাসন প্রকল্প তৈরি, রাস্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন, এবং পরিবেশবান্ধব নগর নিশ্চিত করা ই তাদের কাজ।
শহর উন্নয়নে বগুড়া শহর উন্নয়ন কতৃপক্ষ হলে পৌর ও শহর সমাজসেবা অফিস শহর এলাকার দরিদ্র ও সমস্যাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সামাজিক ক্ষমতায়ন, সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রদান এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পরিচালনা করতে পারবে। একটি নিরাপদ,সুপরিকল্পিত এবং বাসযোগ্য আধুনিক শহর গড়ে তুলতে মাস্টার প্লান অনুযায়ী শহর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
মাস্টার প্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা হলে শহরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতের জনসংখ্যা ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে পরিকাঠামো পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে। মাস্টার প্ল্যান হলে উন্নত পরিবহন, পানি নিষ্কাশন এবং ইউটিলিটি সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে।
মাস্টার প্লান হলে পরিকল্পিত এলাকায় সম্পত্তির দাম ও মান বৃদ্ধি পায়, পার্ক, সামাজিক সুবিধা এবং বাণিজ্যিক এলাকার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য থাকে, বন্যা বা দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে এলাকাকে নিরাপদ রাখে, বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী নিশ্চয়তা প্রদান করে। বৈধ সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে বগুড়া উন্নয়ন কতুপক্ষ গঠন করতে মতামত ব্যিক্ত করেছেন বগুড়াবাসী।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/165072