কাল থেকে বাংলা একাডেমিতে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু

কাল থেকে বাংলা একাডেমিতে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু

জাতীয়ভাবে চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা গারো ও অন্যান্য জাতি গোষ্ঠীর নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সাত দিনব্যাপী শুরু হচ্ছে বৈশাখী মেলা।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও বাংলা একাডেমি আয়োজিত এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় কৃষিজাত দ্রব্য, কারুপণ্য, লোকশিল্পজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, জিআই পণ্য, কুটির শিল্পজাত সামগ্রী, হস্তশিল্পজাত ও মৃৎশিল্পজাত সামগ্রী পাওয়া যাবে। 

 

আগামীকাল বেলা সাড়ে ১১টায় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই মেলার উদ্বোধন করবে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

 

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আযম বলেন, বৈশাখী মেলা মূলত সর্বজনীন লোকজ মেলা। প্রতিবছরের মতো এবারো বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। নববর্ষকে উৎসবমুখর করতে এ মেলার আয়োজন করা হয়। বাংলা একাডেমিতে সাধারণত ৩০ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করে থাকে। কিন্ত বই পড়াকে উদ্বুদ্ধ করতে বৈশাখী মেলায় ৭০ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করা হবে।

 

বিসিক চেয়ারম্যান মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, বিসিকের মেলা সারাবছরই মতিঝিলসহ নানাস্থানে হয়ে থাকে। এবার ১৬০টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে চামড়াজাত পণ্য ৭টি, জামদানী পণ্য ৬টি, নকশিকাঁথা ৪টি, বস্ত্র ৪৪টি, শতরঞ্জি ৫টি, মণিপুরি শাড়ি ২টি সংগঠনকে স্টল দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বিনামূল্যে প্রান্তিক কারুশিল্পীদের জন্য ১৩টি স্টল, ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর জন্য ২টি স্টল, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির জন্য ১টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, আগে বিসিকের আয়োজনে করা মেলায় লোকসমাগম কম থাকত, স্টলগুলোও পরিপূর্ণ থাকত না। আশার কথা, নানা শর্তে সংগঠনগুলোকে এখন এ মেলায় অংশগ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আছেন, যারা আর্থিক সঙ্গতির অভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত মেলাগুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। আবার তাদের অনেকের শোরুম বা মার্কেটে দোকান ক্রয় করার সামর্থ্যও থাকে না। আমরা তাদের বিশেষভাবে সহযোগিতা করছি। সুতরাং বৈশাখী মেলাটি এই গোষ্ঠীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

উল্লেখ্য, বিসিক প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে কাজ করে আসছে। নতুন উদ্যোক্তা অন্বেষণ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিল্প নিবন্ধন প্রদান, প্রশিক্ষণ প্রদান, ঋণ সহায়তা প্রদানসহ উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রচার-প্রসার ও বাজারজাতকরণ এবং সম্প্রসারণের জন্য বছরব্যাপী পণ্যমেলা ও পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করে থাকে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/165049