বগুড়ার নন্দীগ্রামে ইরি-বোরো ধান ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন কৃষক
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার নন্দীগ্রামে ইরি-বোরো ধান ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন হাজারো কৃষক। বৈশাখের উজ্জ্বল রোদে উপজেলার বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে এখন দুলছে কাঁচা ও আধাপাকা ধানের শীষ। কোথাও কোথাও ধানের শীষ সোনালি রঙ ধারণ করতে শুরু করেছে। ভালো ফলনের আশায় প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে সময় দিচ্ছেন কৃষকরা। তবে রোগবালাই, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা ও বাজারদর নিয়ে উৎকণ্ঠায় পার করছেন প্রতিটি দিন।
উপজেলার বিস্তৃর্ণ ফসলি মাঠজুড়ে এখন ধানের সমারোহ। দিগন্তজোড়া সবুজ ও সোনালি ফসলের মাঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি কৃষকদের মনেও জাগিয়েছে নতুন আশার আলো। অনুকূল আবহাওয়া, কৃষকের নিবিড় পরিচর্যা এবং সময়মতো সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কারণে এ বছর ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় ১৯ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৯ হাজার ৮৯৪ মেট্রিকটন। বর্তমানে ধানের গাছে রোগবালাই প্রতিরোধে কৃষকরা জমিতে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করছেন। আর কয়েকদিন পরই শুরু হবে ধান কাটার উৎসব।
নন্দীগ্রাম সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও আদর্শ কৃষক রেজাউল করিম কামাল বলেন, আমি এবছর প্রায় ৬৫ বিঘা জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করেছি। ধানের অবস্থা এখনও ভালো রয়েছে। সময়মতো রোপণ ও পরিচর্যা হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করছি। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের চাপের মধ্যে চাষাবাদ করতে হচ্ছে।
নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার দক্ষিণপাড়ার কৃষক আলাউদ্দিন আলী বলেন, প্রতিদিন মাঠে গিয়ে ধানের পরিচর্যা করছি। অবহেলার সুযোগ নেই। ধান ভালো হলে সংসার ভালো চলবে, না হলে বিপদে পড়তে হবে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট কম থাকায় সেচ ব্যবস্থায় তেমন সমস্যা হয়নি।
যদিও কিছু এলাকায় ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিনে তেল সংকটের কারণে সাময়িক সেচ ব্যাহত হয়, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া সার ও কীটনাশকের বড় কোনো সংকট না থাকলেও উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, এ বছর ইরি-বোরো ধানের অবস্থা সন্তোষজনক। কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে ইনশাঅল্লাহ।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/164891