সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, খুশি কৃষক
এনায়েতপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার স্থানীয় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে এ এলাকার কৃষকরা নতুন ধান কাটতে শুরু করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় খুশি স্থানীয় কৃষকরা। তবে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় আছেন কৃষকরা। ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধানের দাম আরো বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি স্থানীয় বোরো আবাদে উপজেলায় ৯৩৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন কৃষকরা। এবার উপজেলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৩০ মেট্রিক টন। কর্তন হয়েছে ৮৫০ হেক্টর জমি। প্রকৃতি নির্ভর এ আবাদের বর্তমান অবস্থাও খুব ভালো দেখা যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে উপজেলার অধিকাংশ এলাকার মাঠের ফসল পাকতে শুরু করেছে। কোন কোন এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। কাল বৈশাখীর ছোবল যদি কাটিয়ে উঠতে পারে কৃষক তাহলে তাদের সোনার ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।
উপজেলার খাষকাউলিয়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এবার দুই একর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান আবাদ করেছিলাম। আবাদ খুব ভালো হয়েছে। আধা বিঘা জমির ধান কাটা হয়েছে। এতে বিঘায় ১৬ মণ হারে ৮ মণ ধান পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, এবারের স্থানীয় বোরো আবাদে সার, কীটনাশক ছাড়া আর কোনো খরচ নেই। প্রতি মণ বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। বর্তমান বাজারে আধা শুকনো প্রতি মণ বিক্রি করা হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো: জাহিদুল ইসলাম বলেন, এবছর চৌহালী উপজেলায় ৯৩৭ হেক্টর জমিতে স্থানীয় বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৩০ মেট্রিক টন চাল। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ৪.৫ মে. টন।
সামনের দিনগুলোতে যদি কোন রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি না হয় তাহলে এই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাজারে তেমন শুকনো ধান বিক্রি করা হচ্ছে না বিধায় ধানের দাম একটু কম। তবে তিনি বলেন শুকনো ধান হলে অবশ্যই কৃষক তার ন্যায্য মূল্য পাবেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/164878