চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকা-গোপালগঞ্জ ট্রেন চালু হবে: ডাঃ কেএম বাবর এমপি
চলতি মাসের (এপ্রিল) শেষ সপ্তাহে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ এবং গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় ট্রেন চলাচল শুরু হবে মন্তব্য করেছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর।
আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিরোধী দল অনেক বাজে মন্তব্য করেছিল। অথচ হাতের কালি মোছার আগেই ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ ভাবে বিগত সরকার গোপালগঞ্জকে সোনা দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছে। কিন্তু আমরা জানি, বিগত সরকার গোপালগঞ্জের তেমন কোনো উন্নয়ন করেনি, যাতে এ জেলায় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বিগত শেখ হাসিনার সরকার গোপালগঞ্জ থেকে রাজশাহী ট্রেন চালু করেছে। তারা কি পারত না গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা ট্রেন চালু করতে? তারা কি পারত না গোপালগঞ্জে একটি ইপিজেড স্থাপন করতে? তাহলে তো আমার জেলায় মানুষের কর্মসংস্থান হতো। তারা মুখে বললে তো সব হতো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার দেশ শাসন করেছে। এ জেলার মানুষ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তারপরও গোপালগঞ্জ পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার। পৌরসভার পানি মুখে নেওয়া যায় না। নতুন সংযোগ দিতে পারছে না। যে পানি সরবরাহ করে, তাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তখন শুনেছি, গোপালগঞ্জ পৌরসভা নাকি টাকার বন্যায় ভেসে গেছে। তাহলে ওই টাকা গেল কোথায়? জনগণের জন্য কি একটি পানির প্ল্যান্ট নির্মাণ করা গেল না, যাতে জনগণ বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারে? ইতোমধ্যে পানির প্ল্যান্ট করার জন্য ডিও লেটার দিয়েছি।’
ডা. বাবর বলেন, ‘আমরা তিনজন এমপি মিলে গোপালগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি। আমাদের ব্যক্তিগত কিছু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য দিন-রাত কাজ করছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, হাতের কালি শুকানোর আগেই তা বাস্তবায়ন করেছেন। আগামীতে সারা দেশের সঙ্গে গোপালগঞ্জেরও উন্নয়ন হবে।’
চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে ডা. বাবর বলেন, ‘আপনারা সমাজের নিরীহ, দরিদ্র ও মেহনতি মানুষের পক্ষে কাজ করবেন। নির্বাচনে ভোটের আশায় তাদের ঠকিয়ে প্রভাবশালী পক্ষ নেবেন না। এলাকায় মাদক, চুরি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে থাকবেন। তাহলে আল্লাহ চাইলে আপনারা পুনরায় নির্বাচিত হবেন। আর মেহনতি মানুষের পক্ষে থাকলে আল্লাহ আপনার সঙ্গে থাকবেন।
উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এমপি বাবর বলেন, আপনারা এমন প্রকল্প নেবেন না, যা জনগণের কোনো কাজে আসবে না। আপনারা এমন প্রকল্প নেবেন, যাতে জনগণ উপকৃত হন। আপনারা নির্ভয়ে কাজ করবেন, যাতে আমার এলাকার মানুষ সুবিধা পায়। আমার সঙ্গে যারা সব সময় থাকেন (নেতা-কর্মী), তাদের কোনো অনৈতিক কাজেও সহযোগিতা করবেন না। আমার সঙ্গে থাকা কেউ যদি আমার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিতে চায়, আমাকে জানাবেন আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
এমপি বাবর আরও বলেন, ‘গোপালগঞ্জের প্রতিটি মানুষের এমপি আমি। তাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমি একটি বাসযোগ্য গোপালগঞ্জ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কোনো গডফাদার বা বাহিনী থাকবে না। কোনো রাজনৈতিক গডফাদারও থাকবে না। আমার কাছে সবাই সমান। এভাবেই আমরা মিলেমিশে গোপালগঞ্জের উন্নয়ন করতে চাই।’
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বাবলী শবনাম, সদর থানার ওসি আনিচুর রহমান, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিকদার শহীদুল ইসলাম লেলিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন হিরা, জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন লিপটন, গোবরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, হরিদাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস হোসেন, উরফি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির গাজী, করপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, কাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম, দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিম আহমেদ, রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম, কাজুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইউব আলী ফকির, শুকতাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রানা মোল্লা, সাহাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিনয় সরকার আনাদি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া জেলা ও উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/164769