সিরাজগঞ্জে যমুনার চরে কালোজিরা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় যমুনা নদীর চরাঞ্চলে বাড়ছে কালোজিরার চাষ। ঔষধি গুণাগুণসমৃদ্ধ মসলাজাতীয় এ বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়। এছাড়া এর ফুলের মধু উৎকৃষ্ট হিসেবে বিশ্বব্যাপী বিবেচিত। চরের মাটি কালোজিরা চাষের জন্য উপযোগী। এছাড়াও অল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় চাষিরা এ ফসল চাষে দিন দিন আরও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেবল যমুনা নদীবিধৌত চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলের ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের বোয়ালকান্দি ও বারবয়লাচর, স্থল ইউনিয়নের সন্তোষা, উমারপুর ইউনিয়নের দত্তকান্দি, মালীপাড়া ও গোসাইবাড়ি চর, ঘোরজান ইউনিয়নের ফুলহারা, খাসকাউলিয়া ইউনিয়নের জোতপাড়া এবং বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে কালোজিরার চাষ হয়েছে। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে কালোজিরা চাষ শুরু হয়।
মার্চ মাসের শেষের দিকে শুরু হয় ফসল কর্তন। প্রতি বিঘায় প্রায় ৪ মণ কালোজিরা উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতি মণ কালোজিরার বর্তমান বাজারমূল্য ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। উপজেলার স্থল ইউনিয়নের গোসাইবাড়ি চরের কৃষক হাতেম আলী বলেন, কালোজিরা একটি লাভজনক ফসল। এ বছর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া রাসায়নিক সার ও বীজ দিয়ে কালোজিরা চাষ করে ফলন ভালো হয়েছে।
একই ইউনিয়নের মালীপাড়ার কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, এক বিঘা জমিতে কালোজিরা চাষে ব্যয় হয়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ৪ মণ কালোজিরা উৎপাদন হয়েছে। প্রতি মণ কালোজিরা বিক্রি করে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা পাওয়া যাবে।
উপজেলার সন্তোষা ব্লকে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু হুরাইয়া বলেন, কালোজিরার জমি চাষ, বীজ বপণ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, আগাছা দমন, ফসল কর্তন ও সংগ্রহ করতে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। বীজ বপণের সর্বোচ্চ ১৩০ থেকে ১৫০ দিনের মধ্যে কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারেন। বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা ক্রমশ এ ফসল চাষে ঝুঁকছেন।
চৌহালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, রবি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন চরে ২৯ হেক্টর জমিতে কালোজিরার চাষ হয়েছে। যমুনা চরের মাটি পলিবাহিত হওয়ায় কালোজিরা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক একেএম মনজুরে মাওলা বলেন, মসলা জাতীয় এই ফসলে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসে গাছে ফুল ফোটে, তখন মৌমাছিরা নেকটার সংগ্রহ করে। এই মধুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে। কালোজিরার তেল শরীরের জন্য অনেক উপকারী।
তিনি বলেন, সরকারি কৃষি প্রণোদনা পেলে সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চল অধ্যুষিত ৫টি উপজেলা কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুরে এই কালোজিরার চাষ আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/164643