কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে প্রতিবন্ধী সাবলু এখন মাংস বিক্রেতা

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে প্রতিবন্ধী সাবলু এখন মাংস বিক্রেতা

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে আত্মমর্যাদার পথে হাঁটলেন শারীরিকভাবে অক্ষম এক যুবক। তিনি উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের চাকিরপশার তালুক গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে সাবলু(৪৫)। নিজের সংগ্রাম আর ইচ্ছাশক্তি দিয়ে আবারও জীবিকা নির্বাহের পথে ফিরেছেন তিনি।

জানা যায়, সাবলু একসময় খাসি ছাগল কেটে মাংস বিক্রি করেই সংসার চালাতেন। কিন্তু হঠাৎ ব্রেইন স্ট্রোক করে তার বাম হাত ও পা প্যারালাইজড হয়ে যায়। এতে তিনি কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হওয়ায় নেমে আসে চরম সংকট। বাধ্য হয়ে তিনি বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি।

পরবর্তীতে বিষয়টি রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল ইমরানের নজরে এলে তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সাবলুকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন। প্রথমে তাকে একটি ভ্যারাইটিস স্টোর করে দেওয়া হলেও লোকসানের কারণে সেটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

এরই মধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা সহায়তা পান সাবলু। সেই অর্থ দিয়েই তিনি নতুন করে উদ্যোগ নেন। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজারহাট বাজারের ফুলখাঁর চাকলা সড়কের পাশে বসে আবারও খাসির মাংস বিক্রি শুরু করেন তিনি। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তার অদম্য মনোবল এলাকাবাসীকে মুগ্ধ করেছে।

অনেকেই তার কাছ থেকে মাংস কিনে তাকে উৎসাহ যুগিয়েছেন। এ বিষয়ে সাবলু বলেন, ভিক্ষা করা ভালো নয়। মানুষ সামনে সহানুভূতি দেখালেও আড়ালে সমালোচনা করে। তাই ভিক্ষা ছেড়ে দিয়েছি। এখন মাংস বিক্রি করে সৎভাবে সংসার চালাতে চাই। সচেতনমহল মনে করছেন, যথাযথ সহায়তা ও সমাজের সহযোগিতা পেলে সাবলুর মতো অনেকেই ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/164639