বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় নববর্ষকে সামনে রেখে মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছে

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় নববর্ষকে সামনে রেখে মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছে

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছে। নারী, পুরুষ, শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সি মৃৎশিল্পের কারিগররা এখন মহাব্যস্ত।

আর ৩ দিন পরই পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩। এই দিন অতিতের সকল দু:খ গ্লানি ধুয়ে মুছে শান্তির বার্তা বাঙালি জাতির মনে আনন্দের বন্যায় জাগ্রত করে তোলে।  নববর্ষের উৎসবকে ঘিরে উপজেলাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে বসবে বর্ষবরণ মেলা। সেই মেলায় বিভিন্ন রকমের মাটির খেলনাসহ বিভিন্ন জিনিসের চাহিদা থাকে। তাই এখন শেষ মুহুর্তে দিন রাত ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা।

হরেক রকম মাটির তৈরি জিনিস শুকানো ও পোড়ানো শেষ করে এখন রঙের পর্ব চলছে। যদিও আধুনিকতার ছোঁয়ায় মৃৎশিল্পী প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবুও বংশ পরস্পরায় এবং জীবিকা নির্বাহের তাগিদে উপজেলার অনেকেই এখনো মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত। জানা যায় সারা বছর তেমন কোনো আয় না হলেও বৈশাখী মেলায় মাটির তৈজসপত্র বিক্রি করে মৃৎশিল্পীরা বেশ আয় করে থাকেন।

গ্রামের মেলাগুলোতে নারী পুরুষ, ছেলে-মেয়ের সমাগম ঘটে। আর এই মেলার আকর্ষনই হচ্ছে মাটির তৈরি বিভিন্ন খেলনা ও জিনিসপত্র। মৃৎশিল্পীদের হাতের তৈরি এসব খেলনা ও  কারু কাজ এর মধ্যে রয়েছে, গ্লাস, মগ, তরকারির বাটি, প্লেট, মিষ্টির হাড়ি, জগ, ফুলদানীসহ খেলনা সামগ্রীর মধ্যে আম, পেয়ারা, কামরাঙ্গা, কমলা, তাল, পটল, লিচু, কলা, তরমুজ, বেগুন, মাটির ব্যাঙ, হাতি, বাঁঘ, সিংহ, মাটির তৈরি ব্যাংক. কুমির। যা গ্রামের মেলাগুলোতে মুগ্ধতা ছড়ায়। ছোট বড় সববয়সীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

পাল পাড়ার মৃৎশিল্পী চন্দন কুমার পাল, তার স্ত্রী পুথি রাণী পাল, স্বপন কুমার পাল সহ আরো অনেকে জানান, প্লাস্টিকের জন্য তাদের মাটির খেলনা এখন আর আগের মতো বিক্রি হয় না। কিন্ত পহেলা বৈশাখের গ্রামীন মেলায় মাটির বিভিন্ন তৈজসপত্র ও বাচ্চাদের কদর বেশি থাকে। বেঁচাকেনাও বেশ ভালো হয় । তাই তারা চৈত্র মাসের পুরো সময় ব্যস্ত থাকে।

তবে উপকরণের দাম বাড়ায় এখন লাভ কম হয়। তাই অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছে। কালের বিবর্তনে বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকজন মৃৎশিল্পী রয়েছেন। তারা আরো জানান, এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে তারা সহযোগিতাও পায় না। মৃৎশিল্পীরা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প। বর্তমানে এটি বিলুপ্তির পথে। তারা সরকারের কাছে তাদের এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পহেলা বৈশাখ যথাযথভাবে উদযাপনের প্রস্তুতিমুলক সভা গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা সভাকক্ষে নির্বাহী অফিসার শাহরুখ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, থানা অফিসার ইনচার্জ আফজাল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আকবর কবীর, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহফুজা খাতুন, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাখওয়াত হোসেন মল্লিক, দুপচাঁচিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম ফারুক, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্পাদক সুদেব কুমার কুন্ডু, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসিম কুমার দাস, প্রভাষক হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ। পহেলা বৈশাখে সকালে বৈশাখী শোভাযাত্রা, উপজেলা পরিষদ চত্বরে ৫ দিন ব্যাপি লোকো মেলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/164574