বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালেই মিলছে হরমোন ও ইলেকেট্রালাইট পরীক্ষা

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালেই মিলছে হরমোন ও ইলেকেট্রালাইট পরীক্ষা

নাসিমা সুলতানা ছুটু : বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এখন থেকে এই হাসপাতালেই রক্তের সিবিসি (ঈইঈ), আরবিসি (জইঈ), প্লেটলেটসহ শরীরে সোডিয়াম, পটাসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রোলাইট ও হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এখানে অত্যাধুনিক হেমাটোলজি অ্যানালাইজার, ইলেকট্রোলাইট অ্যানালাইজার এবং হরমোন অ্যানালাইজার মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রোগীদের নির্ভুল রোগ নির্ণয়ের জন্য একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনও সংযোজন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পরীক্ষার পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ল্যাব অথবা শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে যেতে হতো।

এতে একদিকে যেমন রোগীদের ভোগান্তি হতো, অন্যদিকে বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করতে গিয়ে গুনতে হতো অতিরিক্ত টাকা। নতুন এসব মেশিন চালু হওয়ায় এখন থেকে হাসপাতালেই নামমাত্র সরকারি ফি-তে সব ধরনের পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে ওই হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স রে মেশিনের সাহায্যে এক্স-রে জনিত সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। একই বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে হেমাটোলজি এনালাইজার, ইলেকেট্রালাইট এনালাইজার এবং হরমোনের পরীক্ষার জন্য অত্যাধুনিক মেশিন বসানো হয়েছে। খুবই স্বল্পমূল্যে হাসপাতালে অত্যাধুনিক এসব যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা করানো হয়। বাইরের কোনো ল্যাবে হেমাটোলজির পরীক্ষা করাতে যেখানে ৮শ’ থেকে হাজার টাকা গুণতে হয় সেখানে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে মাত্র দেড়শ’ টাকায় ওই পরীক্ষা করানো যাবে।

একইভাবে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ পদার্থ কমে শরীরে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলে ইলেকেট্রালাইট পরীক্ষা করাতে বাইরে ৮শ’ থেকে হাজার টাকা পড়লেও ওই হাসপাতালে মাত্র ২শ’ টাকায় এই পরীক্ষা করানো যাবে। এছাড়া থাইরয়েড, প্রজনন হরমোন এবং হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য হরমোন এনালাইজার মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

ওই হাসপাতালে মাত্র ২শ’ থেকে ২৫০ টাকায় এই পরীক্ষাগুলো করা যাবে। বাইরের যে কোনো ল্যাবে এসব পরীক্ষার জন্য ১৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা গুণতে হয়। অপরদিকে ডিজিটাল এক্স রে মেশিন চালু হওয়ায় মাত্র ২শ টাকায় এক্স রে করা যাবে। বাইরে পরীক্ষা করাতে এর প্রায় ৪ গুন বেশি টাকা গুনতে হয়।

ওই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মজিদুল ইসলাম জানান, নতুন এসব যন্ত্রপাতি সংযোজনের ফলে সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের আর কোনো বেসরকারি ল্যাব বা অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজন পড়বে না। এখন থেকে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মতো হাসপাতালেই সব পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

হাসপাতালের বর্হিবিভাগে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রোগীদের সেবা দিয়ে থাকে এবং জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের চিকিৎসার প্রয়োজনে নির্ধারিত সময় ছাড়া অন্য সময়েও পরীক্ষা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, তবে খুবই অল্প অর্থে এসব পরীক্ষা হাসপাতালে করানোর ফলে প্রতিদিন যত রোগী পরীক্ষা করার সক্ষমতা আছে তার চেয়ে অনেক বেশি রোগী হয়। বিশেষ করে ডিজিটাল এক্স রে মেশিনে শতাধিক রোগীর সিরিয়াল থাকে।

ডা. মজিদুল আরও বলেন, এই উদ্যোগের ফলে বিশেষ করে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত রোগীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। আধুনিক প্রযুক্তির এসব মেশিন ব্যবহারের ফলে পরীক্ষার রিপোর্ট হবে অত্যন্ত নিখুঁত এবং দ্রুততম সময়ে রোগীরা সেবা পাবেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/164572