গতকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে পুলিশ, পথচারীসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অন্তত ২০ জনকে চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়েও পারেনি। পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোবিন্দগঞ্জের ছাতক রোডে দিঘলী খোজার পাড়ার জাবেদ মিয়ার গ্যারেজে অটোরিকশা রাখতে গেলে চালক ছাদিক মিয়ার সঙ্গে জাবেদের কথা কাটাকাটি হয়। গ্যারেজে গাড়ি রাখতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে দুই গ্রামের শতাধিক লোকজন জড়ো হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছাতক থানা, জাউয়া তদন্ত কেন্দ্র ও জয়কলস হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।
সংঘর্ষের কারণে সিলেট–সুনামগঞ্জ ও ছাতক রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তিনটি সড়কের দুপাশে শত শত যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে। এতে রোগী ও বিদেশগামী যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে।
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বাবলু দাশের ওয়ার্কশপে রাখা সাতটি অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করা হয়। পথচারীরা প্রাণ বাঁচাতে দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন।
রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পরে আটকে থাকা সব ধরনের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ ব্যাপারে ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) ১০ পুলিশ আহত হয়েছে। এখন ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে টহল জোরদার রয়েছে।