৩ মাসেও শূন্য ইশতেহার বাস্তবায়ন, প্রশ্নের মুখে জকসু

৩ মাসেও শূন্য ইশতেহার বাস্তবায়ন, প্রশ্নের মুখে জকসু

জবি প্রতিনিধি: দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়নে নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি।

  আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের অভাব।

  ন্যায্যমূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত হয়নি।

  টিএসসি আধুনিকায়নে কোনো অগ্রগতি নেই।

  শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয় নি।


শিক্ষার্থীবান্ধব ২১ দফা ইশতেহার এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জোরালো আশ্বাস দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) ও হল সংসদের নেতৃত্বে আসে শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল।


চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) ২১টি পদের মধ্যে ১৬টিতেই জয় পেয়েছেন এ প্যানেলের প্রার্থীরা। যা ছিল একপ্রকার ভূমিধ্বস বিজয়।


ইশতেহারের বাইরে সামান্য কিছু কাজ করেছে যেগুলোর প্রতি শিক্ষার্থীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

 

তবে নির্বাচনের তিন মাস পার হলেও ঘোষিত ২১ দফা ইশতেহারের একটি প্রতিশ্রুতিরও দৃশ্যমান বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ এমন অভিযোগ উঠেছে বিপুল ভোটে নির্বাচিত জকসু নেতাদের বিরুদ্ধে।


বিশেষ করে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন, আবাসন সংকট নিরসন, ন্যায্যমূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সরবরাহ এবং টিএসসি আধুনিকায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।


শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে হতাশা বাড়ছে। ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কার্যক্রম না থাকার বিষয়টি আংশিকভাবে স্বীকার করে জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “জকসু নির্বাচনের পর জাতীয় নির্বাচন, রমজান ও ঈদের দীর্ঘ ছুটির কারণে ক্যাম্পাসে নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের কিছু দাপ্তরিক অসহযোগিতার কারণেও কাজ এগিয়ে নিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি—খুব শিগগিরই দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা করছি।”


এদিকে হতাশা প্রকাশ করে ১৮তম ব্যাচের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিম আহমেদ সিয়াম বলেন, “জকসু নির্বাচনের শুরু থেকেই আমার প্রত্যাশা খুব বেশি ছিল না। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম বাস্তবায়ন এখানে সহজ নয়—কারণ আমাদের ক্যাম্পাসে আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। তবে বর্তমান কার্যক্রমে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা আশা করি, তারা দ্রুত এসব সংকট কাটিয়ে ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবে।”


আরেক শিক্ষার্থী মাহাদি হাসান নাইম বলেন, “ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ইশতেহারগুলো নিঃসন্দেহে শিক্ষার্থীবান্ধব ছিল। কিন্তু তিন মাসেও সেগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়া অবশ্যই হতাশাজনক। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে জকসু নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীরা বিকল্প নেতৃত্ব বেছে নিতে পারে।”


উল্লেখ্য, ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে ছিল—দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন, আবাসন সংকট নিরসন, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা প্রসার, লাইব্রেরি সুবিধা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন।

 

এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, ছাত্রী হলের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, পরিবহন সেবা সম্প্রসারণ, টিএসসি আধুনিকায়ন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতিও ছিল। ইশতেহারে র‍্যাগিং, সাইবার বুলিং, মাদকসহ সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, আউটকাম বেজড এডুকেশন (OBE) চালু, উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা এবং পেপারলেস প্রশাসনের মতো উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়।


তবে তিন মাস পার হলেও এসব প্রতিশ্রুতির কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।


তবে তাদের ইশতেহারে থাকা টিএসসি উন্নয়নে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে ছাত্রদল ছাত্র অধিকার সমর্থিত প্যানেলের সাংস্কৃতিক সম্পাদককে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কাজ করছেন তাদের মত। এগুলো দেখে শিক্ষার্থীদের মনে আরও প্রশ্ন দৃঢ় হচ্ছে যে শিবির সমর্থিত প্যানেল কি শুধু মুখের বুলিতেই দায় সেরে যাবেন?

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/164458