ঝিকরগাছায় তেল সংকট: শিক্ষক, সাংবাদিক ও চাকরিজীবী পাচ্ছেন অগ্রাধিকার
যশোরের ঝিকরগাছায় জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চলমান তেল সংকট ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে উপজেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি অফিসগামী কর্মচারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে পড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন চাকরিজীবী, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের নির্দেশনা দিয়েছে।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রনী খাতুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জরুরি সেবা ও পেশাগত কার্যক্রম সচল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব ফিলিং স্টেশন মালিক ও ম্যানেজারদের কাছে অনুরোধ করা হলো যে, তেলের মজুদ থাকা সাপেক্ষে নির্দিষ্ট শ্রেণির পেশাজীবীদের জন্য আলাদা লাইন তৈরি করা বা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহ করা হবে। এই ক্ষেত্রে বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফিলিং স্টেশন মালিক ও কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে, বৈশ্বিক সমস্যার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে nationwide সমস্যার সঙ্গে ঝিকরগাছা উপজেলাও মোকাবিলা করছে। এই পরিস্থিতিতে সকল স্টেশনকে সতর্কতা ও দায়িত্বের সঙ্গে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, জরুরি সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, পুলিশ প্রশাসন, চাকরিজীবী, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য আলাদা লাইন করে বা পরিচয়পত্র যাচাই করে তেল সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে, ফিলিং স্টেশনের দৃশ্যমান স্থানে এই নির্দেশনাটি প্রদর্শনের জন্য বলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রনী খাতুন জানিয়েছেন, উল্লেখিত ব্যক্তিরা বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন। পাশাপাশি তেলের অপচয় রোধ, অপ্রয়োজনীয় মজুত না করা এবং ন্যায্যমূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করতে পাম্প মালিকদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের মাধ্যমে জরুরি সেবা ও পেশাগত কার্যক্রমে বিঘ্ন এড়ানো সম্ভব হবে। প্রশাসন আশা করছে, এই উদ্যোগ সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে সাধারণ জনগণও সুবিধা পাবে। স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে কর্মরতরা ইতিমধ্যেই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছেন।
এছাড়া, স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অগ্রাধিকার লাইন চালু হলে অফিসগামী কর্মচারী, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য তেল সংগ্রহ অনেক সহজ হবে। পূর্বে দীর্ঘ লাইন এবং তেলের অপ্রতুল সরবরাহের কারণে প্রতিদিন সময়ের ক্ষতি হতো। এখন এই পদক্ষেপে সেই সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসন আরও অনুরোধ করেছে, যে কোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপস্থিত হতে এবং যথাযথ নিয়ম মেনে তেল সংগ্রহ করতে। এতে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের মালিকরা ইতিমধ্যেই এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন এবং অগ্রাধিকার লাইন তৈরি করে জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জন্য তেল সরবরাহ নিশ্চিত করছেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/164324