বগুড়া আর্ট কলেজ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনগুলোতে চলছে বৈশাখের আয়োজন
হাফিজা বিনা : উত্তরের জনপদ বগুড়ার প্রকৃতিতে বৈশাখের আগমনী গান শুরু হয়েছে। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে আর মাত্র কয়েকদিন পরেই বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্র বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও এই উৎসবকে ঘিরে বগুড়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও স্কুল-কলেজ, বিশেষ করে বগুড়া আর্ট কলেজে শুরু হয়েছে উৎসবের কর্মযজ্ঞ। দিন-রাত চলছে তুলির আঁচড় আর মাটির সরায় রঙের খেলা। কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে কুমার পল্লীতেও।
পহেলা বৈশাখ উদযাপনে বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরামসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের কার্যালয়গুলোতে এখন নিয়মিত চলছে গান, নাচ, নাটিকা, কবিতা আবৃত্তির মহড়া। এসো হে বৈশাখ গানের সুরে মুখরিত হচ্ছে প্রতিটি সংগঠন কার্যালয়। পৌর পার্কেও কাজ চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রচনা প্রতিযোগিতা ও লোকজ সংগীতের আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত জেলা, উপজেলা প্রশাসন ও শিল্পকলা একডেমি।
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বগুড়া আর্ট কলেজ গিয়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুপর্ণা, হাসান, চঞ্চল, তুলনা, সৌমিক, মেহেদীসহ আরও অনেকের মধ্যে কেউ করছেন রঙের কাজ, কেউ করছেন মাটির কাজ, কেউ করছেন কাগজ কেটে বিভিন্ন নক্শা করে তাতে রং করছেন, কেউ বাঁশ চট দিয়ে তৈরি করছেন বাঙ্গালীর ঐতিহ্য ঘোড়ার কাজ, আবার কেউ কাজে ব্যস্ত আছে শীতল পাটি ও বাঁশ দিয়ে বিশালাকৃতির বিশাল আকৃতির ইলিশ মাছের অবয়ব। লোকজ মুখোশ, কেউ ব্যস্ত শখের হাড়ি বা সরাচিত্রের অলঙ্করণে। লোকজ মোটিফের মাধ্যমে বাঙালির আদি ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
কলেজের শিক্ষার্থীদের তৈরি এই শিল্পকর্মগুলোই শোভা পাবে বৈশাখী শোভাযাত্রায়। এ ব্যাপারে কলেজের গ্রাফিক ডিজাইনের প্রভাষক মো: রবিউল ইসলাম বলেন, বৈশাখী উৎসব বাঙালীর প্রাণের উৎসব। বাংলা ১৪৩৩ সালকে বরণ করে নিতে বগুড়া আর্ট কলেজ প্রতি বছরের মত কাজ করছে। এর মাধ্যমে নতুন বছরে আমরা বাঙালীর ইতিহাস, অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই।
বৈশাখী মেলার আয়োজক বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরামের সদস্য সচিব এড. পলাশ খন্দকার জানান, বৈশাখী মেলা আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য। এবছর এ মেলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে আমরা লোকজ যত ব্যাপার আছে এবং আমাদের জীবন থেকে যেসব গ্রামীন ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে তা তুলে ধরা হবে।
এই জন্য মেলা মঞ্চে প্রতিদিন লাঠিখেলা, সাপখেলা,বায়োস্কোসহ বিলুপ্তপ্রায় লোকজ খেলাধূলার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও চারু-কারু পণ্যের প্রদর্শণ ও বিক্রি ছাড়াও নাগরদোলনা, মাটির পুতুল, বেত ও বাঁশশিল্পের সাথে পরিচিত হবে সবাই।
বৈশাখী উৎসবের সবচেয়ে বড় মেল বন্ধনের জায়গা হলো বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী ৪৫তম বৈশাখী মেলা। বগুড়া পৌর পার্কের শহীদ টিটুমিলনায়তন চত্বরে বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরাম ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসন, বগুড়া পুলিশ প্রশাসন, বগুড়া পৌরসভার সার্বিক সহযোগিতায় বৈশাখী মেলার ১৩৩ তম আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
১৪ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচদিন এই মেলার সাংস্কৃতিক মঞ্চে প্রতিদিনই দেশীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, লাঠিখেলা, সাপখেলা,বায়োস্কোসহ বিলুপ্তপ্রায় লোকজ খেলাধুলা, চারু-কারু পণ্যের প্রদর্শণ ও বিক্রি ছাড়াও নাগরদোলনা, মাটির পুতুল, বেত ও বাঁশশিল্পের পসরা সাজিয়ে বসবেন কারিগররা। মেলা উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন, ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সব মিলিয়ে বগুড়া এখন উৎসবের অপেক্ষায়। রঙের প্রলেপ আর ঢাকের কাঠির শব্দের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে আপামর জনতা। অশুভকে বিদায় জানিয়ে নতুন ভোরে রঙিন হওয়ার স্বপ্নে বিভোর উত্তরের এই জেলা।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/164244