গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসী পেট্রোলিয়ামে জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় চরম ভোগান্তি
ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় জ্বালানির অভাবে কৃষি, সেচ ও পরিবহণ খাতে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন চলমান এ সংকট কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালুর দাবি জোড়ালো হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের আওতায় মেসার্স বালাসী পেট্রোলিয়ামের মাধ্যমে নিয়মিত জ্বালানি উত্তোলন ও সরবরাহ চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার মদনেরপাড়া মৌজার বালাসীঘাট সড়কে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমোদনপ্রাপ্ত জ্বালানি মজুদ ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকায় কৃষি, সেচ ও পরিবহণ খাতে সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম কিবরিয়া সবুজ বলেন, ফুলছড়িতে প্রতিনিয়ত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সেচ, নৌ ও সড়ক পরিবহণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
বালাসী পেট্রোলিয়ামের মাধ্যমে নিয়মিত সরবরাহ চালু করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি সহজলভ্য হবে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমবে এবং পরিবহণ ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফুলছড়ি উপজেলায় কোনো পূর্ণাঙ্গ ডিজেল ও পেট্রোল পাম্প না থাকায় প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে দূরবর্তী স্থান থেকে অতিরিক্ত খরচে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হয়। তারা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, পেট্রোলের জন্য শহরের পাম্পে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক সময় জ্বালানি পাওয়া যায় না। স্থানীয়ভাবে সরবরাহ চালু হলে এ ভোগান্তি কমবে বলে তারা আশা করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিন্টু মিয়া বলেন, ফুলছড়ির কৃষি অনেকাংশেই জ্বালানি নির্ভর। বিশেষ করে চরাঞ্চলে সেচকাজে ডিজেল চালিত পাম্প ব্যবহৃত হয়।
স্থানীয়ভাবে জ্বালানি পেলে কৃষক অনেক লাভবান হবে। এতে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ সংক্রান্ত বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/164223