বগুড়ার গাবতলী-সোনাতলায় ডিজেল সংকটে সেচ কাজ ব্যহত

বগুড়ার গাবতলী-সোনাতলায় ডিজেল সংকটে সেচ কাজ ব্যহত

গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি: গাবতলীতে ডিজেল সংকটে ভুগছে কৃষক। ইরি বোরো মৌসুমে পর্যাপ্ত ডিজেল না পেয়ে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। চলতি মৌসুমে গাবতলী ১৮ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে ইরিবোরো আবাদ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সরকার রেসনিং পদ্ধতিতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ করছে।

এর আওতায় পড়েছে পূর্ব বগুড়ার শস্য ভান্ডার খ্যাত গাবতলী উপজেলা। এই উপজেলায় প্রতি বছর পর্যন্ত ধান চাষ করা হয়। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু ভরা মৌসুমে ডিজেল সংকটে পড়েছে কৃষক। পুরো উপজেলায় একটি মাত্র  ফিলিং স্টেশন হওয়ায় কাঙ্খিত ডিজেল পাচ্ছেনা কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে এবার উপজেলায় ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। বোরো ধান চাষে বিদ্যুৎ চালিত সেচ যন্ত্রের পাশাপাশি ডিজেল চালিত স্যালো ইঞ্জিন দিয়ে জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। এই উপজেলায় ১৩ হাজারের বেশি শ্যালো ইঞ্জিন রয়েছে। যে গুলো চালাতে প্রতিদিন কয়েক হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়।

কিন্তু এই উপজেলায় খাদিজা ফিলিং স্টেশন নামে একটি মাত্র ফিলিং স্টেশন রয়েছে সোন্ধ্যাবাড়িতে যেখান থেকে পুরো উপজেলায় সেচের জন্য পিেিজল সরবরাহ করা হয়। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সংকচের কারনে রেসনিং পদ্ধতিতে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

ফলে তারা প্রয়োজন মত ডিজেল পাচ্ছেনা। খাদিজা ফিলিং স্টেশনের স্বত্ত্বাধিকারি  মো. সেলিম সরকার জানান গাবতলী উপজেলার মধ্যে একটি মাত্র ফিলিং স্টেশ রয়েছে যেখান থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার লিটার ডিজেল সেচ কাজের জন্য বিক্রি করা হয়।

কিন্তু এখন প্রয়োজন মত ডিজেল না পাওয়ায় তারা কৃষকের চাহিদা মত ডিজেল দিতে পারছেনা। ফলে কৃষিতে বিরুপ প্রভাব পড়ছে। তিনি তার পাম্পের জন্য আরও ডিজেল বরাদ্দ দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রকিত আহবান জানান।

এদিকে আমাদের সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ডিজেলের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে সময় মতো কৃষকরা জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দিতে পারছেন না। ফলে উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ওই উপজেলায় ১০ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও রোপন করা হয়েছে ১০ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। যা গত বছর ছিল ১০ হাজার ৩৭০ হেক্টর।

একটি সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার সোনাতলায় প্রায় ৬২টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও সৌর চালিত সেচ পাম্প। এছাড়াও ৪ হাজার ১৭৮ টি ডিজেল চালিত সেচ পাম্প রয়েছে। সেচ পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় ডিজেলের সরবরাহ অনেক কম। পাম্প মালিকদের অভিযোগ, ডিপো থেকেই তারা পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, তেলের কোন সংকট নেই। গ্রাহক পর্যায়ে তেল কেনার আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় এমনটি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে কৃষক পর্যায়ে ক্ষতির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/163940