গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ নিয়ে বিতর্ক, অবিচার না হওয়ার আশ্বাস
গুম ও মানবাধিকার সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বাতিল এবং সেগুলোকে নতুন করে আইনি রূপ দেওয়া নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে। বিরোধী দল এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের সমালোচনা করলেও আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান দাবি করেছেন, আগের অধ্যাদেশগুলো হুবহু পাস করলে গুমের শিকার পরিবারগুলোর ওপর অবিচার করা হবে।
রোববার (৫ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে এ নিয়ে আলোচনা তোলেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি অধ্যাদেশগুলো বাতিল না করার আহবান জানান।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং জাতীয় মানবাধিকার সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বর্তমান সরকার বাতিল করছে না, বরং সেগুলোকে আরও যুগোপযোগী করতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, আগের অধ্যাদেশগুলো হুবহু বিল আকারে পাস করা হলে গুমের শিকার পরিবারের ওপর অবিচার করা হবে। অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই ছাড়া না পায়, সেজন্য সুনির্দিষ্ট বিল আনা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, আইন দুটিকে আরও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকারী ও কার্যকর করতে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগিরই এগুলো নতুন বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে।
সংসদে জানানো হয়, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের আমলে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিলো। সংসদীয় কমিটির যাচাই-বাছাইয়ের পর ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে কমিশন। বাকি ২০টির মধ্যে চারটি বাতিল করে ১৬টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এই তালিকার মধ্যেই রয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ দুটি।
আলোচনার শুরুতে এক পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলীয় নেতা বাতিল করা অধ্যাদেশগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনার সুযোগ চান। মীর আহমাদ বিন কাসেম সংসদকে জানান, গুমের শিকার পরিবারগুলো দীর্ঘকাল ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছে, তাই এই সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।
সরকার পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, গুম ও মানবাধিকার রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না এবং দ্রুততম সময়ে নতুন আইন পাসের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/163902