জুলাই সনদের সঙ্গে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কোনো সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী
জুলাই সনদের সঙ্গে গণভোট বাস্তবায়নের কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) ঝিনাইদহের শৈলকুপায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
গণভোট বাতিল হলে জুলাই সনদ বাতিল হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আরো বলেন,“ভাইয়েরা আমার, এখানেই প্রতারণার ফাঁদ। জুলাই সনদ থাকা না থাকার উপরে গণভোটের ভোট বাতিল হওয়া না হওয়া নির্ভর করে না। জুলাই সনদ নিজেই স্বতন্ত্র, স্বকীয় এবং কার্যকরী।
তিনি বলেন, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে। এখানে কোনো ইফস্ এন্ড বাটস নাই। সুতরাং যারা বলছেন গণভোট বাতিল হলে জুলাই সনদ বাতিল হবে, তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।
মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় আইন ও গুম কমিশন বাতিল হওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এর কোনোটিই বাতিলের খাতায় নাই, এর সবগুলো হলো পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে আমরা আবার ফিরে আসবো নতুন বিল নিয়ে সেই কথা বলছি।
জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আইনমন্ত্রী বলেছেন, যারা মজুতদারি ও কালোবাজারির মাধ্যমে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হতে পারে।
এ বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি নিজ দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলেও তাকে সবার আগে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, তেল সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এই সংকটটা তৈরি হচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে এসে গাড়ি নিয়ে এসে একই তেল একই দিনে দুই তিনবার তারা লাইন দিয়ে তেল নিয়ে গিয়ে বাসায় রেখে বোতলে ভর্তি করে ড্রামে ভর্তি করে রেখে আবার তেল নিতে আসছেন।
তিনি বলেন, “আমরা এতদিন সফট লাইনে ছিলাম। আমরা বলেছি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে কালোবাজারি এবং মজুতদারির বিরুদ্ধে সেকশন ২৫-এ যে শাস্তির বিধান করা হয়েছে প্রয়োজন বোধে সেই শাস্তি আমরা প্রয়োগ করব, তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আমরা সেই কারণে প্রশাসনকে বলছি আপনারা কঠোর হন।”
তিনি আরও বলেন, “যদি বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এর সঙ্গে জড়িত থাকে সবার আগে তাকে গ্রেপ্তার করবেন। যদি বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এই অকাম করে তাকে কড়া করে কারাগারে নেন। যদি কেউ তার পক্ষে তদবির করতে আসে তাকেও গ্রেপ্তার করুন সহযোগী হিসেবে। আমরা যেকোনো মূল্যে কালোবাজারি এবং মজুতদারির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
তিনি আরও জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে শৈলকুপাসহ দেশের ১১টি স্থানে কৃষক কার্ড ইস্যু করা হবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শৈলকুপা সফরের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “এই মাসের মধ্যেই আমাদের বাংলাদেশের অহংকার, আমাদের বিএনপির অভিভাবক, জিয়া পরিবারের উত্তরসূরি, বাংলাদেশের আপামর জনতার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শৈলকুপা আসতে যাচ্ছেন। যেদিন শৈলকুপায় তারেক রহমান আসবেন ওই দিন আপনারা সবাই গোটা শৈলকুপার মানুষ তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানাবেন।