বগুড়া শহর যানজটমুক্ত ও সৌন্দর্যবর্ধনে প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার
শাওন রহমান : বগুড়া শহরকে যানজটমুক্ত ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। শহরের সড়ক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গ্রহণেরও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম-শহরে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ও স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম স্থাপন, প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে ল্যান্ডস্কেপিং ও সৌন্দর্যবর্ধনে-গাছ লাগানো, ট্রাফিক আইল্যান্ড নির্মাণসহ অপ্রয়োজনীয় যানবাহনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং পার্কিং জোনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করেছেন। তিনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে গত ২৯ মার্চ সরকারের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করেন। প্রতিমন্ত্রীর চিঠির প্রেক্ষিতে গত ১ এপ্রিল সওজ বগুড়ার পক্ষ থেকে পরিকল্পনা ও প্রকল্প প্রণয়ণে বুয়েট বিআরটিসি’র পরিচালকের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।
চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত শহর বগুড়া জেলা বাণিজ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা ও প্রধান সড়কগুলোতে ক্রমবর্ধমান যানজট নগরবাসীর জীবনযাত্রা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং জরুরি সেবা প্রাপ্তিতে গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের প্রধান প্রধান সড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের দৈনন্দিন জীবন অত্যন্ত ভোগান্তিতে পড়েছে। মূলত শহরের প্রধান বনানী-মাটিডালি (এন-৫১৪) মহাসড়ককে কেন্দ্র করে মূলত যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া শহরের সড়ক ব্যবস্থাপনা ও সৌন্দর্য চিত্রের অনিয়ম শহরের আধুনিক চেহারাও হ্রাস করছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শহরের যানজট নিরসন ও চিত্রোন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে-প্রধান ও ব্যস্ত সড়কগুলোর যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্বিন্যাস, আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ও স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম স্থাপন, প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে ল্যান্ডস্কেপিং ও সৌন্দর্যবর্ধন যেমন-গাছ লাগানো, ট্রাফিক আইল্যান্ড নির্মাণ। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় যানবাহনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং পার্কিং জোনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রচারাভিযান পরিচালনা করা, যাতে শহরের চলাচল ও নাগরিক জীবন উভয় নিরাপদ, সুষ্ঠু ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হয়।
চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী-ব্যবস্থাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে কেবল যানজট নিরসনই সম্ভব হবে না, বরং শহরের সৌন্দর্য ও আধুনিক চেহারাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে জানিয়ে কারিগরি (টেকনিক্যালি) দিক বিবেচনায় নিয়ন্ত্রিতভাবে গণপরিবহণ চলাচল, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং শহরের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের মাধ্যমে বগুড়া জেলা তথা উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার নামে পরিচিত জেলাটি আরও এক ধাপে এগিয়ে যাবে বলেও উল্লেখ করেন।
এদিকে, সওজ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক/বাণিজ্যিক হাব নামে পরিচিত অন্যতম ব্যস্ত শহর বগুড়ায় দিন দিন বাড়ছে যানজটের সমস্যা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মুলত শহরের বনানী-মাটিডালি (এন-৫১৪) মহাসড়ককে লেগেই থাকে দীর্ঘ যানজট। মহাসড়কটির পিটিআই মোড় হতে দত্তবাড়ি পর্যন্ত প্রতিদিনই চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা। সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করতেও অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এই সড়কে সমন্বিত পরিবহণ ব্যবস্থার আলোকে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিং কিংবা অন্য কোন উপযোগী মডেল চালুকরণের নিমিত্তে স্ট্যাডি করণপূর্বক যথাযথ প্রকল্প প্রণয়নের যাবতীয় ব্যবস্থ্যাদি গ্রহণের জন্য জানানো হয়।
এছাড়াও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বুয়েট ঢাকার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে চিঠিতে। পাশাপাশি চিঠিটির একটি অনুলিপি সওজ’র প্রধান প্রকৌশলীকেও প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সওজ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক (চ.দা.) বলেন, বগুড়া শহরকে স্থায়ীভাবে যানজট মুক্ত করতে বুয়েটের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং প্রকল্প গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। খুব দ্রুতই এসবের বাস্তবায়ন দেখতে পারবেন বগুড়াবাসী। তিনি আরও বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজিং বাস রুট হলো-গণপরিবহন ব্যবস্থাপনার একটি আধুনিক মডেল। এটি বাস্তবায়িত হলে, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা রোধ, যানজট নিরসন এবং যাত্রীদের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ শহরে পরিবহন ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে। এতে শহরবাসীর দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে যাবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/163502